কীভাবে একজন প্রাণীবিশারদ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন

Source: kid101.com

যদি প্রাণীবিদ্যা, ন্যাচারাল সায়েন্স কিংবা জীববিজ্ঞানে আপনার আগ্রহ থাকে, তাহলে আপনি একজন প্রাণীবিশারদ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। একজন প্রাণীবিশারদ মূলত যেকোনো পশুপাখি অথবা জীবের ভেতরের কিংবা বাইরের সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন ধরণের কাজ করে থাকেন। ক্ষেত্রেভেদে একজন প্রাণীবিশারদের দায়িত্ব ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। চলুন জেনে আসি, কীভাবে একজন প্রাণীবিশারদ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

Source: nationalzoo.si.edu

প্রাণীবিশারদ পদটি আপনার জন্যে উপযুক্ত কি?

একজন প্রাণীবিশারদকে প্রাণীবিদ্যাতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও আখ্যায়িত করা যায়। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্র বিশেষে বিভিন্ন প্রাণীর সমস্যার সমাধান, প্রাণীদের অভিযোজন ও অর্থনৈতিক খাতের দেখাশোনা করেন। একজন প্রাণীবিশারদের বাৎসরিক বেতন ২০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু এর বিপরীতে আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে। বিভিন্ন কোম্পানি কিংবা চিড়িয়াখানা অথবা ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের প্রাণীদের সুপারভিশন, প্রাণীদের রোগ-শোক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, স্টাফ হায়ারিং, প্রাণীদের রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এবং সমস্যার সমাধানসহ আরো অনেক ধরণের কাজ রয়েছে একজন প্রাণীবিশারদের।

Source: lpzoo.org

সুতরাং ভেবে দেখুন এই পদে আপনি ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন কিনা। এই পদটি আপনার প্যাশন ও দক্ষতার সাথে কতটুকু উপযুক্ত, তা নিয়েও ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

একজন প্রাণীবিশারদের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

একজন প্রাণীবিশারদ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পূর্বে আপনি, বায়োলজিস্ট, জু কিপার, সুপারভাইজার, ম্যামোলজিস্ট, হার্পেটোলজিস্ট অথবা অরিন্থোলজিস্ট চাকরি দ্বারা ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। উপরোক্ত পদগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে প্রাণীবিশারদ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

Source: gothinkbig.co.uk

ক্ষেত্রভেদে একজন প্রাণীবিশারদের কাজ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একজন প্রাণীবিশারদকে যেসব কাজ করতে হয়, সেগুলো হচ্ছে,

১. জু ও ন্যাচারাল আইনের সাথে সবসময় আপ টু ডেট থাকা।

২. কোম্পানি বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের বাৎসরিক রিপোর্ট তৈরি করা।

৩. বিভিন্ন প্রাণীবিশারদদের মিটিং সংঘটিত করা।

৪. প্রাণীদের দেখাশোনা করা।

৫. শেয়ারহোল্ডারদের ও স্টেকহোল্ডারদের দিকে খেয়াল রাখা।

৬. প্রাণীদের শরীরের দিকে খেয়াল রাখা।

৭. ক্ষেত্রের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কাজের অগ্রগতির দিকে খেয়াল রাখা।

৮. প্রাণীদের খাবার ও বিভিন্ন অগ্রগতির মেইনটেনেন্সের দিকে নজর দেওয়া।

৯. স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, নিরাপত্তা, প্রোপার্টি এবং জেনারেল ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পালন করা।

একজন প্রাণীবিশারদের কিছু সাধারণ দক্ষতা থাকা উচিৎ। সেগুলো হচ্ছে,

১. জটিল বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করার দক্ষতা থাকতে হবে।

২. বিভিন্ন সমস্যায় দ্রুত সমাধান বের করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

৩. যেকোনো বিষয়ে আস্থা রাখার মতো মন মানসিকতা থাকতে হবে।

৪. বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থায় খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা থাকতে হবে।

৫. অসাধারণ যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।

৬. যেকোনো বিষয়ে বিচক্ষণতার সাথে নেগোসিয়েশন করার দক্ষতা থাকতে হবে।

৭. অসাধারণ ইন্টারপার্সোনাল দক্ষতার অধিকারী হতে হবে।

Source: celebritynetworth.com

শুরুতে ছোটোখাটো কোম্পানিতে প্রাণীবিশারদ হিসেবে কাজ করুন

যদি আপনি প্রাণীবিশারদ হিসেবে কোনো কোম্পানি থেকে ইন্টার্নি করে থাকেন, তাহলে ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করার প্রয়োজন পড়বে না। আর যদি আগে কোথাও ইন্টার্নশিপ না করে থাকেন, তাহলে বড় কোম্পানিতে প্রাণীবিশারদ হিসেবে কাজ করার পূর্বে ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করুন। এতে অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা দুইই লাভ করতে পারবেন।

Source: blog.openstudycollege.com

প্রাণীবিশারদ হিসেবে বড় কোম্পানিতে চাকরি খুঁজুন

ছোটোখাটো কোম্পানিতে চাকরি করার পর, বড় বড় কোম্পানির দিকে চলে আসুন। তবে খেয়াল রাখবেন, যেন কাজের দক্ষতা ও যোগ্যতা দুইই বজায় থাকে। অনেক সময়েই দেখা যায়, ছোটোখাটো কোম্পানিতে কাজ করার জন্যে যেসকল দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে, বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। কারণ, বড় কোম্পানিগুলোতে কাজের ক্ষেত্রও বড় হয়।

Source: tuitxblcodes.com

বড় বড় কোম্পানিগুলোতে কাজ পাওয়ার জন্যে ইনডিড, লিংকডিন, মনস্টার, গ্লাসডোরের মতো ওয়েবসাইটগুলোতে চাকরী খুঁজতে পারেন। এগুলোতে প্রফেশনালি চাকরি খোঁজা যায়। তবে মনে রাখবেন, বড় কোম্পানিগুলোতে চাকরি পেতে হলে আপনাকে আরো বেশি জানতে হবে। কার্যপদ্ধতি ও কৌশলে আরো পারদর্শী হতে হবে।

Source: animalrecruiter.com

বিভিন্ন পেশাদার প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে যোগ দিন

প্রাণীবিশারদদের জন্য অনলাইনে অনেক ধরণের প্রফেশনাল অরগানাইজেশন, কমিউনিটি ও ফোরাম রয়েছে। সেগুলোতে যোগদান করতে পারেন। যদি কখনো কিছু নিয়ে সমস্যায় পড়েন, তাহলে সেসব ফোরাম থেকে সাহায্য পেতে পারবেন। তাছাড়া অনলাইন ফোরাম এবং কমিউনিটির মিটআপে যোগদান করলেও অনেক শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করা যায়।

Source: careerstint.com

একজন প্রাণীবিশারদের কী ধরণের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে?

একজন প্রাণীবিশারদ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করার পূর্বে, আপনাকে প্রাণীবিদ্যা, জীববিদ্যা, রসায়ন এবং বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন খাতের ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের উপর কমপক্ষে ২ থেকে ৪ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।

Source: careerstint.com

যে কারণে প্রাণীবিশারদ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন

প্রযুক্তির এই যুগে প্রাণীবিশারদদের উপর প্রায় প্রত্যেক বায়োলজিক্যাল কোম্পানি বা চিড়িয়াখানাই নির্ভর করছে। আর তাই, প্রতিনিয়তই কোম্পানিগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন খাতে বিভিন্ন ধরণের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে জু কেয়ারটেকার, প্রাণীবিশারদ, সুপারভাইজার ইত্যাদি অন্যতম। প্রাণীবিশারদ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেসব কারণে,

১. প্রত্যেক বায়োলজিক্যাল কোম্পানিতেই বিভিন্ন কাজের জন্য প্রাণীবিশারদদের প্রয়োজন পড়ে।

২. এই খাতে কাজের শেষ নেই।

৩. এই কাজে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারবেন ও নতুন নতুন মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।

৪. নিজের ইচ্ছেমতো নিজের কাজকে সাজিয়ে তুলতে পারবেন।

৫. প্রাণীবিদ্যা ও জীববিদ্যার শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ফোরামটাই অন্যরকম হয়। তাই কমিউনিটিতেও শেখার অনেক কিছুই থাকছে।

Source: britannica.com

প্রাণীবিদ্যা পেশার ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা

প্রাণীবিদদের চাহিদা বর্তমানে তুঙ্গে। কারণ প্রায় প্রত্যেক দেশেই বায়োলজিক্যাল কোম্পানি ও অর্গানাইজেশন থেকে শুরু করে সব ধরণের চিড়িয়াখানাতেও এখন প্রাণীবিশারদ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া এইসব জায়গায় কিছুদিন পরপরই প্রাণীবিশারদদের সংকট দেখা যায়। আর প্রাণীবিশারদ হিসেবে বিদেশে যাওয়ারও অনেক সুযোগ রয়েছে। দেশের বাইরে বর্তমানে অনেক প্রাণীবিশারদরাই প্রতিনিয়ত কাজ করছেন।

Featured Image: kid101.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *