কর্মক্ষেত্রে ‘না’ বলবেন কীভাবে? – Youth Carnival
Blog

কর্মক্ষেত্রে ‘না’ বলবেন কীভাবে?

আমরা প্রায়ই বিভিন্ন সময় কর্মক্ষেত্রে হোক বা অন্য কথাও হোক, না বলতে পারি না বলেই অনেক কাজের বোঝা এসে ঘাড়ে চাপে। একসাথে অনেকগুলো কাজ করতে গিয়ে আমাদের তখন আসলে কোনো কাজই ভালোমত করা হয়ে ওঠে না। আমরা সবাই কমবেশি এমন অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছি। তখন আমাদের এসব বোঝা এড়াতে চাইলে আমাদের ‘না’ বলতে জানতে হবে। যিনি তার জায়গায় স্থির থেকে ‘না’ বলতে পারবেন না তাকে স্রেফ ভুগতে হবে।

এখন কথা হলো না বলতে গিয়ে কারো সাথে সম্পর্ক খারাপ হবে না তো? কিংবা চাকরিতে প্রমোশন পেতে সমস্যা হবে না তো ? এর জন্য আপনার বুঝতে হবে কখন ‘না’ বলবেন আর কখন বলবেন না।

তাই যখনই কোন নতুন কাজের প্রস্তাব পাবেন তখনই নিজেকেই সিন্ধান্ত নিতে হবে আপনি ‘না’ বলবেন নাকি ‘হ্যাঁ’ বলবেন। তবে তার আগে কিছু বিষয় স্পষ্টভাবে ভেবে নেয়া জরুরি –

  • কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রেখে ‘না’ বলতে হবে?
  • কখন কোন পরিস্থিতে ‘না’ বলতে হবে?
  • কোনো কাজে ‘না’ বলার পর কোনো ঝামেলায় পরতে হবে না তো?
  • এক্ষেত্রে ‘না’ বলার উপকারিতা কী?

এসব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলেই আপনি বুঝতে পারবেন কোন পরিস্থিতিতে না বলতে হবে, আর কখন বলবেন না।

কখন না বলবেন?

‘না’ বলাটা উপকারী যদি আপনি সময় বুঝে বলতে পারেন। Image source – Live clarelesly

 কোন কাজের প্রস্তাব পাওয়ার পরই নিজেকে প্রশ্ন করুন-

১. আমি কি এই কাজের জন্য যোগ্য?

নতুন কোনো কাজের প্রস্তাব আপনার কাছে লোভনীয় হতে পারে, নতুন কাজের প্রস্তাব স্বভাবতই লোভনীয়। কিন্তু ধরুন আপনি কাজটিতে কম যোগ্য কিংবা যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও কাজটি দায়সারাভাবে সম্পন্ন করা মানে হচ্ছে যিনি কাজটি দিয়েছেন তাকে ঠকানো। তার চেয়ে এই কাজে অন্য কেউ যদি আপনার চেয়ে বেশি যোগ্য হয় তাহলে তার নাম সুপারিশ করুন। কেননা একটি কাজ আপনি না পেরেও কোনোমতে একটা করে দিলে সেটা আপনার সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করবে। যা আপনার কর্মক্ষেত্রে অনেক প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

২. নতুন কাজটি কি আমার অন্য কাজগুলোতে বাধার সৃষ্টি করবে?

ইতিমধ্যে আপনি এক বা একাধিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। অথবা বর্তমান কাজগুলো নিয়েই আপনাকে অনেক সময় ব্যয় ও পরিশ্রম করতে হয়। আগের কাজগুলোই আপনার মূল কাজ, এমন যদি হয় তাহলে প্রথমেই ভেবে দেখুন নতুন এই কাজটি করতে গিয়ে অন্য কাজগুলোতে বাধা তৈরি করবে কিনা কিংবা সবগুলো কাজ একসাথে করতে গিয়ে আপনি কাজের মান ঠিক রাখতে পারছেন কিনা। তাহলেই আপনি উত্তর পেয়ে যাবেন।

৩. কাজটি কি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য  ক্ষতিকর?

ধরুন যে কাজটি প্রস্তাব করা হল সেটি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর কিন্তু কাজটি করলে আপনার আপাতভাবে আর্থিক লাভের সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে দুটি বিষয় হতে পারে-

  • যিনি কাজটি প্রস্তাব করেছেন তিনি নিজেই জানেন না যে এটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর।তাহলে আপনার উচিত হবে তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাকে ক্ষতির দিকটি দেখিয়ে দেওয়া।

  • কিংবা যিনি কাজটি প্রস্তাব করছেন তিনি জেনেশুনেই এটা করছেন। ব্যবসায়ী প্রতিযোগিতা কিংবা বিদ্বেষ-বশত তিনি এটা করে থাকতে পারেন। তাহলে আপনার কাজ হলো তাকে সরাসরি না বলে দেওয়া

আপনি এই দুই ক্ষেত্রেই আপাতভাবে লাভবান হতে পারতেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে এর জন্য ভুগতে হতে পারে। একই সাথে কাজটি অনৈতিক হবে।

কীভাবে না বলবেন?

তাহলে কীভাবে ‘না’ বলবেন? Image source – Rachelrouf.com

১. বিকল্প কারো নাম প্রস্তাব করুন

আপনি সময়, সুযোগ কিংবা যোগ্যতার অভাবে কাজটি করতে না পারলে আপনার জানাশোনা কাউকে এই কাজের জন্য প্রস্তাব করুন। যিনি কাজটি ভালোভাবে করবেন তাকে কাজটি দেয়ার মাধ্যমে আপনি দুটি সুফল পাবেন। প্রথমত, যাকে কাজটি নিয়ে দিলেন আপনার সম্পর্কে তার একটি ভালো ধারণা হয়ে গেল। দ্বিতীয়ত, বস আপনাকে একজন সৎ ও নির্ভরযোগ্য কর্মী হিসেবে জানবেন। তাতে আপনার কাজের পরিবেশ যেমন সুন্দর হবে, তেমনি পরবর্তী কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিষয়ে আপনি অগ্রাধিকার পাবেন।

২. ভবিষ্যতের অন্য কোনো কাজ নেবার প্রতিশ্রুতি দিন

জানিয়ে রাখুন এই কাজটি নিতে না পারলেও অন্য কোনো কাজের প্রস্তাব এলে আপনি কাজটি করে দেবেন। এই কাজটি হয়তো আপনি নানা কারণে নিতে পারেননি কিন্তু তাকে এই বলে আশ্বস্ত করুন পরবর্তীতে কোনো কাজ আপনার সাথে মিলে গেলে আপনি সেই কাজ ভালোভাবেই করবেন। তাহলে প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তি আপনার উপর ক্ষুণ্ণ হবেন না। কর্মক্ষেত্রে কলিগদের সাথে কিংবা বসের সাথে আপনার সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি সঠিক কাজের পরিবেশ, প্রমোশন- এমন অনেক প্রয়োজনে সুসম্পর্কের সুফল বুঝতে পারবেন।

৩. অজুহাত দেবেন না, প্রয়োজনে চুপ থাকুন

কাজটি না করার পেছনে একগাদা অজুহাত দেওয়া শুরু করবেন না। প্রত্যাখ্যান করার জন্য যতটুকু বলা প্রয়োজন ঠিক ততটুকু বলে  চুপ থাকুন। সব কাজেই অজুহাত দিতে যাওয়াটা একটি খারাপ অভ্যাস। সব কাজের পিছনেই যদি আপনি উপদেশ দেন তাহলে কেউ আপনার কাজটি না করার যৌক্তিক কৈফিয়তকে একটি অজুহাত হিসেবে ধরে নেবে। এমনকি কোনো প্রস্তাব প্রত্যাখাত হবার পর অজুহাত শুনে কেউ হয়তো আপনার প্রতি রেগেও যেতে পারেন। কেন কাজটি করতে পারছেন না শুধু সেটুকুই বলুন যতটুকু না বললেই নয়, বিস্তারিত বলে লম্বা অজুহাতের ফিরিস্তি দিতে যাবেন না।

৪. সহানুভূতিশীল হোন

‘না’ বলার ক্ষেত্রেই বেশি সহানুভূতিশীল হতে হবে। Image source- The balance

যিনি কাজটি দিয়েছিলেন তার প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। কাজটি করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করুন। নিজেকে একবার বসের জায়গায় ভাবুন। যিনি আপনাকে একটি কাজের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি আপনার উপর আস্থা ও সম্মান রেখেই প্রস্তাব করেছেন। তিনি ভাবেন এই কাজটি আপনি ভালো করতে পারবেন। তাহলে আপনারও উচিত তার এই অনুভুতিকে মূল্য দেয়া। তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন, কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং কোন প্রস্তাব শ্রদ্ধার সাথে প্রত্যাখ্যান করতে শিখুন। তাহলে আপনি সহজেই জটিলতা এড়িয়ে কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারবেন।

না বলার উপকারিতা কী?

‘না’ বলার উপকারিতা কী? Image source – The Balance

১. কাজের মান বাড়ান

অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকবে না, স্ব-ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করতে হবে না বলে নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়বে। ফলে স্বভাবতই কাজের মান বেড়ে যাবে। দুই ধরনের কর্মী আছেন। প্রথম দলের কর্মীরা একসাথে অনেক কাজ নিয়ে শুরু করেন, কিন্তু তাদের কাজের মান আশানুরূপ না। দ্বিতীয় দলের কর্মীরা কম কাজ নিয়ে কাজগুলো ভালভাবে শেষ করেন। এবং তাদের কাজের মান ভালো। এখন আপনিই বলুন কোন দলে থাকতে চাইবেন? প্রথম নাকি দ্বিতীয়?

২. কাজে স্থিরতা আসবে

ধীর-স্থিরভাবে কাজ করতে পারবেন। ফলে কর্মক্ষেত্রে শান্তি বজায় থাকবে। আপনি প্রশান্ত চিত্তে সব কাজ সমাধা করতে পারবেন। চিন্তা করুন এমন একটি অবস্থা যেখানে আপনি সারাদিন অস্থিরভাবে অনেকগুলো কাজ করার জন্য ছোটাছুটি করছেন। কিন্তু কোনো কাজই ঠিকমত করতে পারছেন না। খুবই অস্বস্তিকর লাগে, তাই না? আমরা সবাই কমবেশি এইরকম বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। ভদ্রভাবে একটি ‘না’ বলেই আপনি এমন একটি সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারবেন।

৩. কাজগুলো সময়মত শেষ করতে পারবেন

নির্দিষ্ট পরিমাণ কাজ হাতে রাখলে সব কাজই সময়মত শেষ করতে পারবেন। কোম্পানিগুলোতে কাজের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। অনেকগুলো কাজ নিলে কোনো কাজই সময়মত করা সম্ভব হবে না। ফলে আপনার এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতি সবার খারাপ ধারণা হবে। তাই কাজ কম নিন, অতিরিক্ত কাজের ক্ষেত্রে না বলুন।

৪. প্রয়োজনে আবারও না বলার সাহস পাবেন

একবার ‘না’ বললে পরের বার অন্য কোনো অযাচিত, অসুবিধাজনক প্রস্তাবে সহজেই ‘না’ বলতে পারবেন। একবার ‘না’ বলে আপনি আবারও প্রয়োজনে না বলতে পারবেন সহজেই। ফলে আপনার কাজের মান যেমন বাড়বে তেমনি ক্রমশ একজন নির্ভরযোগ্য মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে পারবেন। আপনার কর্মক্ষেত্রে আপনি হয়ে উঠবেন একজন আদর্শ  নির্ভরযোগ্য মানুষ।

Comments

comments

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top