যে ১৬ টি কঠিন প্রশ্ন ইন্টারভিউ এ সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয় এবং তার উত্তর (পর্ব-২) – Youth Carnival
Blog

যে ১৬ টি কঠিন প্রশ্ন ইন্টারভিউ এ সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয় এবং তার উত্তর (পর্ব-২)

১। আপনার বর্তমান চাকরীর কি পছন্দ বা অপছন্দ করেন?

এই প্রশ্নটি করে প্রশ্নকর্তা কিছুটা সংকুচিত হয়ে যেতে পারেন এই ভেবে যে আপনি না বোধক উত্তর দিয়ে তার ফাঁদে পা দিচ্ছেন কিনা । তিনি আপনার কাছে পজিটিভ উত্তর-ই চাচ্ছেন। যদি আপনার বর্তমান কোম্পানি টর্চার চেম্বার ও হয় তবুও তাকে তা বলবেন না। এভাবে উত্তর দিতে পারেন , “আমি আসলে চাকরি খুঁজছিলাম না এবং বর্তমান চাকরিতে আমি খুব ভালো করছি। আমি সেখানকার ট্রেনিং এবং সংস্কৃতি খুব পছন্দ করি। আমাদের পণ্য এবং সার্ভিস অসাধারণ।  আমার বস অনেক সাপোর্টিভ এবং ভালো শিক্ষক। কিন্তু কোম্পানিটি ছোট এবং আমার বিকাশের সুযোগ কম”।  ( আপনার আগের কোম্পানি বড় হলে বলতে পারেন “আমি একটি ছোট কোম্পানি খুজছি,  যেখানে আমি বড় পার্থক্য এনে দিতে পারব”।

২। আপনার কাজের কোন অংশটি আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?

 

ইন্টারভিউ এর প্রেসারে কিংবা আগের জব এ খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে অনেক ক্যান্ডিডেটই ভাবেন তাদের কাজ গুরুত্বপূর্ন ছিল না কিংবা তাড়াহুড়ো করে অপ্রয়োজনীয় দক্ষতার কথা বলে ফেলেন। সাবধান থাকুন। আপনার সামগ্রিক ইমেজ এর কথা মাথায় রেখে আপনার চরিত্রের পজিটিভ দিক গুলো তুলে ধরুন। মনে রাখবেন, আপনি এমন একজন বিজনেস ম্যানেজার এর ইমেজ তৈরি করতে চান যে সুনিপুণভাবে বিজনেস চালাতে সক্ষম। উত্তরটি এভাবে চেস্টা করে দেখতে পারেন, “আমার বুদ্ধিদীপ্তভাবে সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা। আমি প্রতিদিন গুরুত্বের ক্রমানুযায়ী কিছু গোল সেট করি। এবং সেগুলো পূরন না হওয়া পর্যন্ত সব অনুকূলতা এড়িয়ে কাজটি শেষ করার প্রচেষ্টায় থাকি”।

সেই সাথে আপনার কিছু ইম্প্রেসিভ এচিভমেন্ট এর কথা তুলে ধরতে প্রস্তুত থাকুন।

৩।ওভারটাইম কাজ করার ক্ষেত্রে আপনার মনোভাব কি?

আপনার যদি অসুস্থ বাবা-মা থাকেন কিংবা অন্য যেকোন কারণে আপনি যদি ওভারটাইম করতে অনিচ্ছুক হন, তবে প্রশ্নকর্তাকে বলার সময় এটি নয়। সবচেয়ে ভালো উত্তর হল- “যদিও আমি টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং গুরুত্বপূর্ন কাজে প্রাধান্য দেয়ায় বিশ্বাসী, আমি মনে করি মাঝেমধ্যে বাড়তি সময় এর প্রয়োজন হতে পারে।

৪। আপনার নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পর্কে কিছু বলুন।

 

এক্ষেত্রে আপনি যে মানুষকে বোঝাতে,তাদের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পেতে ,এবং যেকোন ডিসিশন নেবার পর যথার্থ অ্যাকশান নিতে সমর্থ সেটা তাদের বোঝান। আপনার বর্ণনাতে “মানুষকে প্রভাবিত করতে পারা,উদ্বুব্ধ করতে পারা, নেতৃত্ব দেয়া, অন্যদের ক্ষমতাশালী করতে পারা, নেগোশিয়েট করতে পারা, পজিটিভ পদক্ষেপ নেয়া, সুযোগ এর সৃষ্টি করা” এই জিনিসগুলো তুলে ধরতে পারেন।

৫।আপনি কিভাবে মেধার পরিচালনা করেন এবং বিকশিত হবার সুযোগ করে দেন?

এটা হল আপনি কিভাবে অন্যদের ম্যানেজ করেন তা জিজ্ঞেস করার আরেকটি পন্থা। আপনি বলুন আপনার অধঃতন যারা আছেন তাদের সাথে নিজে অন্যদের কাছে যেমন ব্যবহার আশা করেন তেমন ব্যবহার ই করেন। আপনি আপনার পরিচালনায় পজিটিভ ক্ষেত্রে পুরস্কার দেয়া এবং সময়মত ফলাফল পেতে পছন্দ করেন। শেখানোর জন্যে আপনি যে সবসময় ই আগ্রহী সেটা তুলে ধরুন। শেষ করুন এমন কারো উদাহরণ দিয়ে যাকে আপনি চাকরি দিয়েছেন,ট্রেইন করেছেন এবং পরে সে পদোন্নতি পেয়েছে।

৬। আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কি?

 

এখানে প্রশ্নকর্তা কি বিজনেস লাইফ নাকি পার্সোনাল লাইফ বোঝাচ্ছেন? জিজ্ঞেস করুন। যদি বিজনেস হয় তাহলে বেশ। আপনার মেজর প্রমোশন যা আপনার কঠোর পরিশ্রম এবং ডেডিকেশন এর ফলে এসেছে সেটির কথা তুলে ধরুন। যদি পার্সোনাল এবং বিজনেস লাইফ দুটোর কথাই বলা হয় তাহলে বিজনেস লাইফ ই বেছে নিন। মনে রাখবেন, আপনি একটি প্রফেশনাল ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন। আপনার বাচ্চার জন্ম আপনার জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন সেটা অবশ্যই সত্যি,কিন্তু এই ক্ষেত্রে তার উল্লেখ করবেন না।

৭। এই কলমটি আমার কাছে বিক্রি করুন।

এটি এন্ট্রি লেভেল এর সেলস ইন্টারভিউ এর সবচেয়ে কমন প্রশ্নের একটি। এটি আপনার অন্য একজন মানুষ এর মনকে উন্মুক্ত করার, তাকে রাজি করানোর ক্ষমতাকে যাচাই করে। প্রশ্নকর্তা চান আপনি ক্রেতার চাহিদা এবং প্রয়োজন যাতে বুঝতে পারেন, সে অনুযায়ী পণ্যের মূল ফিচার বেছে নিতে পারেন এবং সে ফিচার এর সুবিধাগুলো ক্রেতার কাছে তুলে ধরতে পারেন। পণ্য বিক্রির একটি প্রাথমিক উপায় হচ্ছে, পণ্যটি থেকে ক্রেতা কি কি সুবিধা পাচ্ছেন তা ক্রেতার কাছে বিক্রি করা, পণ্যটিতে সর্বমোট কি কি ফিচার আছে তা তুলে ধরার চেয়ে। সুতরাং কলমটির সব বৈশিষ্ট্য গড়গড় করে বলতে যাবেন না। প্রশ্নকর্তাকে জিজ্ঞেস করুন,কলম কেনার ক্ষেত্রে তার কাছে কোন জিনিসটি গুরুত্বপূর্ন।তারপর উত্তর দিন।

৮। আপনার কি কোন প্রশ্ন আছে?

 

এ প্রশ্নে অবশ্যই হাঁ বোধক উত্তর দেবেন। এটা আপনার সর্বশেষ সুযোগ, ভালো ইম্প্রেশন তৈরি করার। ইন্টারভিউতে অন্তত কোম্পানি সম্পর্কে পাঁচটি প্রশ্ন প্রস্তুত করে আসবেন। যাতে বোঝা যায় আপনি কোম্পানি সম্পর্কে রিসার্চ করে এসেছেন। আপনার প্রশ্নগুলো এমন হতে পারে, “গত পাঁচ বছরে এই কোম্পানির এই অর্জনগুলো রয়েছে, সামনের পাঁচ বছরে আরো কি কি অর্জন দেখতে চান?” অথবা “এই চাকরিতে ভালো করতে কোন গুণাবলি প্রয়োজন। ?”

 

 

যে ১৬ টি কঠিন প্রশ্ন ইন্টারভিউ এ সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয় এবং তার উত্তর (পর্ব-১)

১। আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি এবং দুর্বলতা কী?

এটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত ইন্টারভিউ কোশ্চেনগুলোর একটি এবং সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিংও বটে। প্রশ্নের প্রথম অংশটির উত্তর দেয়া অপেক্ষাকৃত সহজ হলেও পরের অংশটি জীবন্ত ল্যান্ডমাইন, যদি না আপনি সতর্ক হন। কোম্পানি সাধারণত এমন কাউকে খোঁজে যারা তিনটি কাজ ভালভাবে করতে পারে।

১। আয় বাড়ানো

২। টাকা বাঁচানো

৩। সময় বাঁচানো

দুর্বলতার প্রশ্নটির উত্তর দেবার সময় আপনার বৈশিষ্ট্যগত ত্রুটির কথা পরিহার করুন। দুর্বলতাটি আপনার দক্ষতা রিলেটেড হলে ভালো হয়। যেমন উত্তরটি এমন হতে পারে- “আমি যখন শুরু করেছিলাম তখন আমার পাওয়ার পয়েন্ট এ দক্ষতা ছিল না। কিন্তু একটি ভালো বইয়ের সাহায্য নিয়ে আমি আমার দুর্বলতাটি দূর করতে পেরেছি।”

আরেকটি ভালো আইডিয়া হচ্ছে দূর্বলতার ছদ্মবেশে নিজের শক্তির দিকটাই তুলে ধরা। যেমন- “আমি আমার কাজ সম্পর্কে প্যাশনেট এবং যেকোন কাজে আমি নিজের সম্পূর্ণ্টাই দেই। তো মাঝে মধ্যে আমি যখন অন্যদের অলস সময় কাটাতে দেখি, তখন হতাশ হই”।

২। কিসের তাড়না আপনাকে রাতে জাগিয়ে রাখে?

এটি আরেকটি ল্যান্ডমাইন যেখানে আপনাকে সাবধানে পা রাখতে হবে। এতি আপনার দুর্বলতা খোঁজার আরেকটি উপায়। আপনি যতই আপনার প্রশ্নকারীর সাথে কথা বলতে বলতে সহজ হয়ে যাবেন, খুব ভালো সম্ভাবনা আছে আপনি অসাবধান হয়ে পড়বেন। খেয়াল রাখুন। এর উত্তরটি হতে পারে, “মাঝেমধ্যে ইন্টারভিউ সম্পর্কিত দুঃস্বপ্ন ছাড়া খুব কম সময়ই আমার ঘুমোতে কস্ট হয়।আমি সঠিক টাইম ম্যানেজমেন্ট এ বিশ্বাস করি এবং পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে নিজেকে রিচার্জ করে নিই। আমি জানি আমি ক্লান্ত থাকলে হত কাজে আমার শতভাগ দিতে পারব না।

৩। আপনার আগের কোম্পানিতে আপনি কীভাবে উন্নতি করেছিলেন?

ভালো প্রশ্ন যদি প্রশ্নকর্তা একজন প্রোমোটেবল ক্যান্ডিডেট খুঁজে থাকেন। এখানে আপনি বিচ্ছিন্নভাবে আপনার পার্সোনাল এবং বিজনেস ট্রেইটগুলো তুলে ধরতে পারেন। আপনার আগের কোম্পানির প্রশংসা করুন। যেমন- “ট্রেনিং টি শিক্ষণীয় ছিল” কিংবা “আমি বেশ কিছু অসাধারণ মেন্টর পেয়েছিলাম যারা আমাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন।” ধাপে ধাপে টাইটেল ধরে আপনার কঠোর পরিশ্রমের এবং মেধার ফসল হিসেবেই যে প্রমোশনগুলো পেয়েছেন তা কথায় কথায় তুলে ধরুন। প্রমোশন যদি নাও পেয়ে থাকেন, আগের চাকরিতে কী কী বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো অতিক্রম করেছেন তার গল্প করুন।

৪। যদি আপনি রঙ হতেন, কোন রঙ হতেন?

আমাকে একবার বেশ ভালো একটি প্রতিষ্ঠান এর ইন্টারভিউতে এই প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। আমি হেসে গর্বিতভাবে রংধনুর রঙ বলে উত্তর দিয়েছিলাম। প্রত্যেকের মধ্যে সাধারণত চার ধরনের বেসিক পার্সোনালিটি টাইপের যেকোন একটি দেখা যায়। কিন্তু আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী চিনতে এবং মানিয়ে নিতে পারি। কখনো আমার লাল হবার প্রয়োজন হয়, কখনওবা সবুজ, মাঝেমধ্যে সাদা কিংবা কালো এমনকি গোলাপিও। প্রশ্নকর্তা হেসে ফেলেছিলেন এবং বলেছিলেন “খুব ভালো উত্তর”।

৫। আপনি  কতদিন আমাদের কোম্পানির সাথে থাকতে চান?

এটি একটি ভালো প্রশ্ন। এর মানে হচ্ছে প্রশ্নকর্তা আপনাকে জবটি দেবার কথা ভাবছেন। কিন্তু এটি ট্রিকি হতে পারে। আপনি ভাবতে পারেন প্রশ্নকর্তা ভাবছেন আপনি অল্পসময় পরই চলে যাবেন কিনা।  টোপটি গিলবেন না। বল প্রশ্নকর্তার কোর্টে ফেরত পাঠান এভাবে উত্তর দিয়ে, “আমি এই কোম্পানিতে খুব ভাল ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে আশাবাদী। আমি পথনির্দেশনায় ভালো সাড়া দেই এবং সবসময়ই নতুন কিছু শিখতে চাই। আমি সাফল্য বলতে বোঝাই নতুন সুযোগ এলে তার জন্যে প্রস্তুত থাকা। আপনার কি মনে হয় কতদিন আমি এখানে সে চ্যালেঞ্জ এর সম্মুখীন হব?”

৬। আপনি কীভাবে মেজর প্রজেক্ট এর কাজগুলো করেন?

আপনি যে একজন সফল বিজনেস ম্যানেজার যে কিনা সমস্যা আইডেন্টিফাই এবং সলভ করতে পারেন তা দেখানোর এটি সুবর্ণ সুযোগ। “আমি কার্যকর স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং এ বিশ্বাসী যা সম্মুখী (অন্য কথায় আমার কী কী রিসোর্স এর প্রয়োজন হবে?) এবং পশ্চাদমুখী চিন্তা (যেমন, যদি ডেডলাইন শেষ এর দিকে থাকে তাহলে সফল আউটকাম পেতে হলে কোন কোন সময়ে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে?) দুটোর সমন্বয়েই গঠিত।

৭। আপনি কীভাবে স্ট্রেস সামলান?

এটির উত্তর দেয়ার সবচেয়ে ভালো পন্থা হচ্ছে প্রতিহত করা।“ আমি সঠিক সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্ট্রেস পরিহার করি। প্রত্যেকটা দিনে অনেকগুলো করে ঘন্টা আছে। আমি কার্যকর লক্ষ্য নির্ধারণ করার মাধ্যমে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করি। আমি ব্যায়াম করি, ঠিকমত খাই, এবং পর্যাপ্ত ঘুমাই। আমার মনে হয় এতেই স্ট্রেস দূরীভূত হয়।

৮। আপনার চাকরির প্রথম ৯০ দিনে আপনি কী করবেন?

এটি প্রশ্নকর্তার দৃস্টিতে ফেয়ার প্রশ্ন হলেও চাকরিপ্রার্থীর জন্যে আনফেয়ার। আপনি সাধারণভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন যে, “আমি কোম্পানির নিকটবর্তী লক্ষ্যের সাথে মিলিয়ে আমার লক্ষ্য সেট করব। তারপর আমি আমার সময় সেই লক্ষ্যগুল অর্জনের জন্যে ব্যয় করব। আপনাদের কোম্পানির জন্যে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এখন কী এবং আপনারা কি কোন ট্রেনিং প্রোগ্রাম অফার করেন?”

Comments

comments

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top