কর্মসংস্থানের গুরুত্ব ও প্রকারভেদ

জীবিকার জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরণের পেশা গ্রহণ করে থাকে। বেতনের ভিত্তিতে কিংবা ব্যবসার মাধ্যমে কাজ করে আয় করাকেই কর্মসংস্থান বলে। পেশার উপরে নির্ভর কর্মসংস্থান বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। আবার কর্মসংস্থান আমাদের জন্য কতটা গুরুত্ব বহন করে সেটাও আমরা জানবো আজকের এই আর্টিকেলে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, কর্মসংস্থানের গুরুত্ব আর প্রকারভেদ।

কর্মসংস্থানের গুরুত্ব অনেক; Source: strategic.gsu.edu

শুরুতে আমরা জেনে নিই কর্মসংস্থান আসলে আমাদের জীবন আর জীবিকার সাথে কতটা প্রয়োজনীয়। আমাদের মাঝে কতটা গুরুত্ব বহন করে এই কর্মসংস্থান।

বর্তমানে বেকারত্ব বাংলাদেশের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি। এ দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। সেজন্যে আমাদের উচিত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। সম্ভব হলে আত্মকর্মসংস্থানের সাথেও জড়িত থাকা। শুধুমাত্র কর্মসংস্থানই পারে এই দেশের বেকারত্ব দূর করতে। দারিদ্রতা আমাদের দেশে এক ধরণের ট্রেডমার্ক হিসেবে যুক্ত হয়ে আছে। কর্মসংস্থানমূলক কাজকর্মের মাধ্যমে আমরা সচেতনতা জাগাতে পারি। অলসতার চেয়ে কর্মসংস্থানের গুরুত্ব কতটা বেশি সম্পর্কে আমরা ধারণা পাবো যদি আমরা কর্মসংস্থান নিয়ে সচেতন হই। এতে করে দেশের থেকে দারিদ্রতা নামক অভিশাপের অনেকটা হলেও মোচন হবে।

কর্মসংস্থান আর্থিকভাবে উন্নত করতে সাহায্য করে; Source: strategic.gsu.edu

সঞ্চয় করার ক্ষমতা বা ইচ্ছা সবার মধ্যে থাকে না। কিন্তু সঞ্চয় করাটা যে কতটা জরুরী তা নিয়ে বিখ্যাত অ্যামেরিকান কমেডিয়ান জ্যাক ব্যানি বলেছেন,

যখন আপনার বেতন কম তখন থেকেই সঞ্চয় করা শুরু করুন। কারণ, বেতন বেশি হয়ে গেলে সঞ্চয় করতে পারবেন না আর!

কর্মসংস্থান আমাদের শিক্ষিত হওয়ার সুপথ তৈরি করে; Source: humanresources.umn.edu

আর তাই একেবারে শুরু থেকেই আমাদের সঞ্চয়ের দিকে মনো্যোগ দিতে হবে। আর এই সঞ্চয় করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে যদি কর্মসংস্থানের উপর জোর দেয়া যায়। কর্মসংস্থান মানুষকে সঞ্চয় করার দিকে উদ্বুদ্ধ করে। যত বেশি সঞ্চয় করবেন তত বেশি মূলধন জমাতে পারবেন। মূলধন গঠন করাও কর্মসংস্থানের একটি বিশেষ লক্ষ্য।

কর্মসংস্থান সঠিক সময়ের ব্যবহার শেখায়; Source: humanresources.umn.edu

কর্মসংস্থান সম্পর্কে সচেতন হলেও এ সম্পর্কে ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করলে একসময় আপনার নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক অবস্থারও উন্নতি হবে। যার ফলে আপনি চাইলেই অন্যের মাঝে এই অর্থনৈতিক অবস্থার সুফল সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবেন। যা একসময় অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে কাজে দেবে। কর্মসংস্থানমূলক কাজকর্ম, নতুন নতুন ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

কর্মসংস্থান জীবনের মান বৃদ্ধি করে; Source: courses.lumenlearning.com

কর্মসংস্থানে জনশক্তির উপর ক্ষমতা অন্য কিছুর নেই। দেশের জনশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে তা জনসম্পদের পরিণত হয়। কিন্তু এই জনশক্তিকেই যদি সঠিক কাজে ব্যবহার করা না যায় তাহলে তা একসময় ভুল দিকে পা বাড়ায়। একটা দেশের জনশক্তিতে কাজে লাগানোর জন্য শুধু অর্থের দিকে খেয়াল দিলেই হয় না, দরকার পড়ে সঠিক নেতৃত্বের। আর একই সাথে দরকার পড়ে যথেষ্ট সংখ্যক কর্মসংস্থানের। কর্মসংস্থান না থাকলে জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করাটা ততটা সহজ হবে না। যদি এই জনশক্তিকে কাজে লাগানো না যায় তাহলে তা একসময় বোঝা হয়ে পড়ে। যার ফলে সমাজের জন্য তা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলতার সৃষ্টি করে। আর তাই, উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা উচিত।

কর্মসংস্থান যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করে; Source: courses.lumenlearning.com

প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত একজন দার্শনিক ও শিক্ষক চাণক্যের মতে,

একটা দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে তার যুবসমাজ ও নারীর সৌন্দর্য।

কর্মসংস্থান মানবসম্পদ তৈরি করে; Source: strategic.gsu.edu

এই যুবসমাজ যদি দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে একটা দেশের অর্থনীতি অনেকটাই এগিয়ে যায়। দেশপ্রেমে যদি যুবসমাজকে উদ্ভুদ্ধ করা যায় তাহলে তারা স্বেচ্ছামূলক কাজের দিকে আগ্রহী হবে যার ফলে আত্মকর্মসংস্থানের পরিমাণ বাড়বে। যা বৃহৎ অর্থে কর্মসংস্থানেরই প্রকারভেদ। জাতীর উন্নয়নের পথে আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। যুবসমাজের জীবনযাত্রার মান যদি বৃদ্ধি করার জন্যও কর্মসংস্থানের গুরুত্ব অনেক। জীবনযাত্রার মানের উপর নির্ভর করে যুবসমাজের আর্থিক, সামাজিক আর পারিপার্শ্বিক অবস্থা। আর তাই এই জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর জন্য দরকার পড়বে কর্মসংস্থানের। কর্মসংস্থানই পারে জাতীর যুবসমাজের মান বৃদ্ধি করতে।

কর্মসংস্থান আমাদের আর্থিক উন্নতিতে সাহায্য করে; Source: blog-tf.doximity.com

কর্মহীন বেকারদের কেউই পছন্দ করে না। কর্মসংস্থান সম্পর্কে জানার পর কেউই কিন্তু বেকার থাকতে পারবে না বা তাদের দ্বারা বেকার থাকা সম্ভব হবে না। কারণ কর্মসংস্থান আপনাকে নিজের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে শেখাবে, কর্মসংস্থান আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করতে শেখাবে। আর তাই কর্মসংস্থানই পারে বেকারদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করতে। যুবসমাজকে কাজে লাগানোর জন্য দরকার পড়বে কর্মসংস্থান সম্পর্কে জ্ঞানের। একইসাথে দেশের মানবসম্পদকে উন্নয়নের চূড়ায় পৌঁছে দিতে হলে দরকার কর্মসংস্থানের।

কর্মসংস্থান সবাইকে সম অধিকার দেয়; Source: blog-tf.doximity.com

কর্মসংস্থান সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে একজন তরুণ বা তরুণই নিজে থেকেই কিছু তৈরি করার সাহস করবে। আর এর মাধ্যমেই গড়ে উঠবে উদ্যোক্তা। বর্তমানে চাকরির মতো ব্যবসাতেও তরুণতরুণীরা সমান পরিমাণে আগ্রহী হয়ে উঠছে আর তার পেছনে রয়েছে কর্মসংস্থান সম্পর্কিত জ্ঞান। কর্মসংস্থানমূলক কাজের মাধ্যমে দেশে ছোটোখাটো ব্যবসায়ী তৈরি করার ফলে দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি করাও সম্ভব। এতে করে দেশের জাতীয় মুনাফা বৃদ্ধিতেও উদ্যোক্তারা হাত রাখতে পারবে। একইসাথে তাদের গর্বিত ব্যবসা নিয়ে তারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ পাবে। আর এর পেছনে নিঃসন্দেহে থাকবে কর্মসংস্থান সম্পর্কিত জ্ঞানের গুরুত্ব।

কর্মসংস্থান সবাইকে কাছে নিয়ে আসে; Source: indochinastarfish.org

কর্মসংস্থান সম্পর্কে জানতে পারলে ও দক্ষ হতে পারলে প্রত্যেকেই সমাজ ও পরিবেশের দিকে আরো বেশি নজর দেবে। যার ফলে সামাজিক সমস্যার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সমস্যারও সমাধান করা সম্ভব হবে। আর প্রায় প্রত্যেক ব্যবসারই কাচামাল আসে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে। সেজন্যে প্রকৃতিকে টিকিয়ে রাখা জরুরী। সুতরাং, সেটা করতে হলে আমাদের প্রয়োজন হবে যথেষ্ট পরিমাণ শিক্ষা আর দক্ষতার। আর সেটা আসবে কর্মসংস্থান সম্পর্কিত জ্ঞান থেকে।

Featured Image: maximusrose.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *