ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে যা করতে হবে

35 Most Famous Historical Landmarks in France

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ ফ্রান্সের খ্যাতি পৃথিবী জুড়ে। উন্নত জীবনযাত্রা ও শিক্ষাব্যবস্থা, শক্তিশালী অর্থনীতি এসব কারণে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরাও উৎসাহী হয়ে উঠেছেন এদেশে উচ্চশিক্ষা লাভ করার জন্য।

শিক্ষা ও গবেষণায় ফ্রান্সের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য। ফ্রান্সের জাতীয় বাজেটের এক পঞ্চমাংশেরও বেশী ব্যয় হয় শিক্ষা খাতে। সারা বিশ্বে খুব কম দেশই আছে যারা ফ্রান্সের মতো শিক্ষা ও গবেষণায় এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে। ফ্রান্সের এ বিশাল বিনিয়োগ যে বিফলে যাচ্ছে না তা ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং দিকেই তাকালেই বোঝা যায়।

কেন ফ্রান্সে পড়তে যাবেন?

  • ফ্রান্সে জীবনযাত্রার মান উন্নত।
  • ইংরেজি ও ফরাসি দুটি ভাষাতে পড়াশোনা করার সুযোগ।
  • ফ্রান্স বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য সুপরিচিত।
  • পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম এবং ফুলটাইম চাকরির সুযোগ রয়েছে।
  • মানবসৃষ্ট সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রাকৃতিক জৌলুসে ভরপুর এই দেশটি।
  • আবহাওয়া ও প্রকৃতি ফ্রান্সের সবচেয়ে সুন্দর আকর্ষণ।

ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার মাধ্যম

ফ্রান্সেরআন্তর্জাতিক মানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে আপনি লিটারেচার, হিস্ট্রি, ল’, স্যোশাল সাইন্স, বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, ফিজিক্স, ম্যাথেমাটিকস, ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্যুরিজম, ডিজাইন ক্রাফট, থিয়েটার ও ফিল্ম, ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক, স্কাপচার, ড্রয়িং, পেইন্টিং, ফ্যাশন ডিজাইনিংসহ নানাবিধ বিষয়ে পড়তে পারবেন।

বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ানোর মাধ্যম ফ্রেঞ্চ। তাই, এদেশে পড়তে চাইলে আপনাকে অব্যশই জানতে হবে ফেঞ্চ ভাষা। তবে, শুধু ফেঞ্চ নয়, অল্প পরিসরে হলেও ইংরেজিতেও এদেশে কোর্স অফার করা হয়ে থাকে। তাই আবেদনের সময় খেয়াল করবেন কোন ভাষায় পাঠদান করা হয়ে থাকে।

প্রস্তুতি

ফ্রান্সে যাওয়ার আগে ফ্রান্সের ভাষা এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জেনে নেয়া উচিত। এজন্য অলিয়ঁস ফ্রঁসেজে যোগাযোগ করতে পারেন। বাংলাদেশে ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ ও পরিচিতির জন্যই অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার প্রতিষ্ঠা। এটি ফরাসি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়ে থাকে।

Image Source: euronews.com

এখানে ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখানো ছাড়াও পাশ্চাত্য নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র প্রভৃতির উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এখানে ফরাসী চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী ও কনসার্ট আয়োজন করা হয়।

যোগ্যতা

আপনি ফ্রান্সে ব্যাচেলর, মাস্টার্স অথবা পিএইচডি যেকোনো প্রোগ্রামের জন্য পাড়ি জমাতে পারবেন। ব্যাচেলর প্রোগ্রামের জন্য অবশ্যই এইচ.এস.সি আর মাস্টার্সের জন্য ব্যাচেলর এবং পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য অবশ্যই আপনার মাস্টার্স ডিগ্রী থাকতে হবে।

দেশটিতে আপনার কোর্স যদি ফ্রেঞ্চ ভাষায় হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে ফ্রেঞ্চ ভাষায় দক্ষতার প্রমাণপত্র দিতে হবে। আর এজন্য আপনার যোগাযোগ করতে হবে Alliance Francaise -এ। আর সেখান থেকে করে ফেলতে হবে ফ্রেঞ্চ ভাষার ওপর কোর্স।

ইংরেজি ভাষার কোর্সের জন্য আপনাকে আইইএলটিএস/টোয়েফল সনদ দিতে হবে। ব্যাচেলরে আবদনের জন্য আইইএলটিএস স্কোর ন্যূনতম ৫.৫ চাওয়া হলেও ৬.০ থাকলে আপনার আবেদন গৃহীত হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। আর মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে ৬.০ প্রয়োজন পড়বে সেক্ষেত্রে ৬.৫ থাকলে আপনার ভিসা ও অন্যান্য সুবিধা পেতে সুবিধা হবে। আর টোয়েফল দিয়ে আবেদন করতে আপনাকে ব্যাচেলরে আবেদনের জন্য ৫৫০ আর মাস্টার্সের জন্য ৬০০ স্কোর অর্জন করতে হবে। তবে আপনার স্কোর বেশি থাকলে ভিসা আবেদনে আপনি এগিয়ে থাকবেন।

অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইংরেজি পারদর্শিতা যাচাই করার জন্য অনলাইন টেস্ট বা স্কাইপিতে ইন্টারভিউ নিয়ে থাকে।

Sacre Coeur Basilica Paris France Photograph by Jon Berghoff | Pixels

যেভাবে ভিসা আবেদন করতে হবে

ভিসার জন্য প্রথমে এম্বাসিতে ই-মেইল করে এপোয়েনমেন্ট নিতে হবে। সকল কাগজপত্র সহকারে এম্বাসিতেতে উপস্থিত হলে ওই দিনই দ্বিতীয়বারের জন্য আরেকটি এপন্টমেন্ট দেওয়া হবে। ভিসার সকল কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর আপনাকে কমপক্ষে তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে ভিসা পাবার জন্য।

সাধারণত যে সকল কাগজপত্র ভিসার জন্য জমা করতে হবে তা নিচে দেওয়া হল। তবে এম্বেসিতে যোগাযোগ করে আপনাকে অবশ্যই চেকলিস্টটা আরেক বার দেখে নিতে হবে, কারণ এম্বেসি অনেক সময় তাদের চেকলিস্ট পরিবর্তন করে থাকে।

ভিসারআবেদনকরারজন্যযেসবডকুমেন্টলাগবে

• পাসপোর্ট (অবশ্যই ৬ মাসের অধিক মেয়াদ থাকতে হবে)
• অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম ও পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি
• ফ্লাইট বুকিং টিকেট (এটা করতে কোনো টাকা লাগে না, শুধু বুকিং দিবেন)
• ভিসা অ্যাপ্লিকেশান ফি বা স্কলারশিপ লেটার (যদি পেয়ে থাকেন। স্কলারশিপ প্রাপ্তদের ফি লাগে না)
• হেলথ ইস্যুরেন্স (যতদিন এর কোর্স ততদিনের করতে হবে)
• জন্ম নিবন্ধন
• সিভি
• সকল একাডেমিক ডকুমেন্টস
• ইউনিভার্সিটির অফার লেটার
• ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সল্ভেন্সি (যিনি আপনার সকল খরচ বহন করবেন তার অর্থাৎ স্পন্সরের)
• হাউজিং সার্টিফিকেট/ ডকুমেন্ট (যদি ফ্রান্সে কোন আত্মীয়ের বাসাকে হাউজিং এর জন্য দেন তাহলে ঐ শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত উনার/উনাদের বাসার সকল কন্ট্রাক্ট পেপার দেখাতে হবে)
• স্পন্সরের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট কপি, যা দ্বারা আপনার সঙ্গে তার সম্পর্ক কি টিউশন ফি পরিশোধের কপি/প্রমাণপত্র
• আইইএলটিএস/টোয়েফল এবং ফ্রেঞ্চ ভাষায় দক্ষতার সনদ
• ট্রেনিং সার্টিফিকেট (যদি লাগে)
• কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট (যদি লাগে)

আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়

ফ্রান্সে থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হোস্টেল রয়েছে। আপনি চাইলে পেইং গেস্ট অথবা শেয়ারিং এপার্টমেন্ট থাকতে পারবেন। এদেশে থাকা খাওয়ার জন্য আপনাকে মাসে খরচ করতে হবে ৪০০-৬০০ ইউরো। তবে এই খরচ পুরোটাই আপনার ওপর নির্ভর করে। মেডিকেল ইনস্যুরেন্স বাবদ আপনার খরচ করতে হবে ৪২ ইউরো/ প্রতি জন/ প্রতি মাস।

পার্ট টাইম জব

ফ্রান্সে বিদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ পাবেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ফ্রেঞ্চ সরকার বিদেশি নাগরিকদের বছরে ৯৬৪ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি প্রদান করে।

18 Things Paris is Known and Famous For

ফ্রান্সে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

পড়াশুনা শেষ করার পর আপনি ফান্সে ১ বছর চাকরি খোঁজার জন্য সময় পাবেন। আর আপনি যদি হয়ে থাকেন তরুণ গবেষক, কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা বা ইনোভেটিভ ইকোনমিক প্রোজেক্টের ডিজাইনার, ফ্রেঞ্চ টেক প্রোগ্রামের অংশ গ্রহণকারী, আর্টিস্ট, উচ্চ পর্যায়ের অ্যাথলেট তাহলে আপনার জন্য ইস্যু করা হবে Plurennial Residence Card (“Passeport Talent”) – এই কার্ডটির আওতায় আপনি ও আপনার পরিবারকে ৪ বছরের ভিসা দেওয়া হবে, আর এই সময়ে আপনি চাকরি করতে পারবেন।

ফান্সে একটানা ৫ বছর বৈধভাবে থাকার পর শর্ত সাপেক্ষে স্থায়ী বসবাসের (পিআর) জন্যে আবেদন করতে পারবেন। সব শর্ত রক্ষিত হলে পেয়ে যাবেন ফ্রান্সের নাগরিকত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *