তরুণদের উদ্দেশ্যে গুগলের চেয়ারম্যান এরিক স্মিডের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ৬টি উপদেশ

প্রতিনিয়ত সদ্য গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে। তবে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে অথবা ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে শুধুমাত্র ভালো কোনো কলেজ বা ইউনিভার্সিটির ডিগ্রি থাকলেই হয় না, বরং থাকতে হয় শিক্ষার্থীর যোগ্যতা। যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রযুক্তিগত ব্যবসার ক্ষেত্রে শুধু তা যথেষ্ট নয় যা আপনি করেন বা চান।

আপনাকে অবশ্যই জলের তরঙ্গের মতো হতে হবে এবং তীরে গিয়ে পৌঁছাতে হবে। গুগলের চেয়ারম্যান এরিক স্মিড এবং প্রাক্তন সিনিয়র ভিপি জোনাথন রোজেনবার্গ একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম “How Google Works” অর্থাৎ, গুগোল কীভাবে কাজ করে। প্রায়ই তাদেরকে তরুণদের পেশাদার ক্যারিয়ারের পরামর্শের জন্য জিজ্ঞাসা করা হয়।

তরুণদের জন্য ক্যারিয়ার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ; Image source: cnbc.com

তাই তারা তরুণদের উদ্দেশ্যে পেশাদার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে হাইলাইট করে এই বইটি লিখেছেন। বইটিতে গুগলের চেয়ারম্যান এরিক স্মিডের দেওয়া তরুণদের উদ্দেশ্যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ সম্পর্কে আজকে আলোচনা করবো।

১. আপনার ক্যারিয়ারের সাথে এমন আচরণ করুন, যেমনভাবে আপনি সার্ফ করে থাকেন

স্মিড লিখেছেন, সমুদ্র তরঙ্গের ফেনা সৈকতের উপর আছড়ে পড়ার সময় আমরা যেভাবে তা উচ্ছাসিত ভাবে ধরে ফেলি, তেমনি আপনার নিজ প্রতিষ্ঠানটিকে ধরে রাখতে হবে। সমুদ্র সৈকতে যেখানে সবচেয়ে বেশি সমুদ্রের ঢেউগুলো খেলা করে, সেখানেই আমরা সবচেয়ে বেশি থাকতে পছন্দ করি, ঠিক সেভাবেই ক্যারিয়ারের জন্যও সেরা তরঙ্গের স্থানটি নির্বাচন করে নিতে হবে।

ক্যারিয়ারের সাথে এমন আচরণ করুন, যেমনভাবে আপনি সার্ফ করে থাকেন; Image source: dearvcp.com

তিনি লিখেছেন, কেবল ইন্টারনেট সংস্থাগুলোই ক্যারিয়ারের জন্য ভালো এমনটি নয়। ফার্মাসিটিক্যালস, হাইটেক ম্যানুফ্যাকচারিং, বিজ্ঞাপন, মিডিয়া, এবং কনজিউমার ইলেকট্রনিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ভালো ক্যারিয়ার রয়েছে।

Loading...

২. প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলে, এমন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করা

আপনি যদি সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করতে না চান, তাহলে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করুন, যে প্রতিষ্ঠান নতুন সব প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি তাদের লক্ষ্য স্থির করবে প্রযুক্তিগতভাবে এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড হবে প্রযুক্তিভিত্তিক। এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে টিকে থাকবে। আর যে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তিভিত্তিক নয়, সে প্রতিষ্ঠানগুলো অচিরেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।  

৩. আগামি ৫ বছরের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

তরুণ পেশাজীবীদের জন্য গুগোলের চেয়ারম্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন, তা হলো পাঁচ বছরের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করা। যেমন, আপনি কোথায় থাকতে চান? আপনি কী করতে চান? আপনি কতোটুকু করতে চান? এছাড়াও আনুষাঙ্গিক পরিকল্পনাগুলো।

সফলতা পেতে লক্ষ্য নির্ধারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ; Image source: lifecn.au

এমনকি এখন থেকে আগামী দশ বছর আপনি কোথায় থাকতে চান, তার একটি পরিকল্পনা তৈরি করার চেষ্টা করুন। এই পরিকল্পনার ফলে আপনি আপনার লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যেতে পারবেন। আপনি যা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, পরিকল্পনা প্রস্তুত করার ফলে খুব শীঘ্রই সেই স্বপ্ন পূরণ করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারবেন।

৪. আপনার বর্তমান এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্যগুলোর একটি লিফট পিচ প্রস্তুত করুন

স্মিড এবং রোজেনবার্গ ব্যাখ্যা করেন, আপনি কী কাজ করছেন? কী পরিচালনা করছেন? কীভাবে আপনার সাফল্য পরিমাপ হচ্ছে? এবং কীভাবে একটি বড় কাজের সাথে আপনি খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম? তা আপনাকে স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা থাকতে হবে। ধরুন, আপনি একটি চাকরি খুঁজছেন, অথবা আপনি একটি চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে আছেন।

বর্তমান এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্যগুলোর একটি লিফট পিচ প্রস্তুত করুন; Image source: prolifeabc.com

ইন্টারভিউ বোর্ডের কর্মকর্তারা আপনাকে ৩০ সেকেন্ড সময় দিলো আপনার জীবনবৃত্তান্তের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং পার্টগুলো বর্ণনা করার। তখন এই ৩০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে আপনাকে আপনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়গুলোর প্রতি হাইলাইট করতে হবে এবং ইন্টারভিউ বোর্ডে থাকা কর্মকর্তাদের মনে প্রভাব ফেলতে হবে। তাই আপনার বর্তমান এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্যগুলোর লিফট পিচ পূর্ব থেকেই প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন।

৫. নতুন কোথাও কাজ করার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করুন

স্মিড এবং রোজেনবার্গ বলেন, যদি আপনাকে আরামদায়ক অঞ্চলের বাইরে কোথাও পাঠানো হয়। অর্থাৎ আপনাকে যদি বলা হয় আপনার ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য বিদেশ যেতে, তবে আপনার তা গ্রহণ করা উচিত। কেননা, ব্যবসা বা কাজের সুযোগ শুধু আপনার অঞ্চলেই নয়, বরং স্থায়ীভাবে সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই প্রাদেশিক।

ক্যারিয়ারে সফল হতে চাইলে এই অভ্যাসটি ত্যাগ করতে হবে। এমন কোথাও আটকে থাকবেন না, যেখানে আপনি অবচেতনভাবে ধরেই নিয়েছেন আপনার সমস্ত ক্লায়েন্ট এই স্থানেই বসবাস করে। তবে আপনি যখন একজন তরুণ বা ক্যারিয়ারে মাত্র প্রবেশ করছেন, সেই সময়টিই সর্বোত্তম সময় বিদেশে কাজ করার জন্য।

তরুণ বয়সেই নতুন স্থানে কাজের উত্তম সময়; Image source: workhow.au

উদাহরণস্বরূপ, আপনি একটি মিডিয়াতে কাজ করেন, মিডিয়াতে প্রচারিত যেকোনো সংবাদের স্বার্থে আপনাকে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করতে হয় এবং বিভিন্ন স্থানের সংবাদ বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে হয়। তাই, শুধুমাত্র প্রাদেশিক না হয়ে নতুন স্থানে কাজ করার মন মানসিকতা থাকতে হবে।

৬. এমন ক্যারিয়ার তৈরি করতে হবে, যেখানে আবেগ এবং অবদান একত্রে থাকবে

ফেসবুকের সিইও শেরিল স্যান্ডবার্গ বলেছিলেন, আবেগ এবং অবদানকে একত্রিত করাই হচ্ছে চূড়ান্ত বিলাসিতা। স্মিড এবং রোজেনবার্গ তার সাথে সম্মত হয় এবং তারা বলেন, চিরস্থায়ীভাবে আপনার এমন ক্যারিয়ার পছন্দ করা উচিত নয়, যা শুধু আপনি পছন্দ করেন তাই করবেন। বরং এমন কিছু করা উচিত, যা আপনাকে আরামদায়ক জীবন সরবরাহ করবে এবং বিশ্বকে প্রভাবিত করবে।

কাজের ক্ষেত্রে আবেগ ও অবদান থাকা অর্জনের মাপকাঠি; Image source: dearvcp.com

লেখকগণ কাজের এই ধরনটিকে পরিমাপ করার একটি পদ্ধতি প্রস্তাব করেন। তারা লেখেন, যদি কোনো তরুণ তার প্রথম পাঁচ বছরের কাজকে তার স্বপ্নের মতো ভাবতে পারে অর্থাৎ তার কাজে আবেগ ও অবদান উভয়ই থাকে, তাহলে তা প্রথম থেকেই তার জীবনের জন্য অর্জনযোগ্য।

Feature image source: businessinsider.com

https://www.businessinsider.com/google-eric-schmidt-career-advice-young-professionals-2014-10?fbclid=IwAR2SuwedQXajaCftHJ8fJrSNvUao1CXP-zUsjgXWu8apmTUzacDK8IdaLuw

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *