যে ৫টি কারণে ২০১৮ সাল হবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের বছর

বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টির ভবিষ্যৎ হতে চলেছে ফ্রিল্যান্সিং। এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীর মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরি করে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সিংহভাগ জরিপ ও বাজার বিশ্লেষণ আমাদেরকে বিভিন্ন নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রের দিকে নির্দেশ করে। যেসব কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রিল্যান্সিং হয়ে উঠছে উৎপাদনমুখী। আরও বিস্তারিতভাবে জানাবো এমন ৫টি কারণ যার জন্য ২০১৮ সাল হবে ফ্রিল্যান্সিং বছর।

২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সার, ফ্রিল্যান্স পরামর্শদাতা এবং স্বল্প সময় কাজ সন্ধানকারীর সংখ্যা বর্তমান সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে; Source: adeptodigital

১. ফ্রিল্যান্স অর্থনীতি ও বিদ্যমান অর্থনীতির তুল্যচিত্র

এক গবেষণা মতে, ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সার, ফ্রিল্যান্স পরামর্শদাতা এবং স্বল্প সময় কাজ সন্ধানকারীর সংখ্যা বর্তমান সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। অপর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫৫ মিলিয়ন মানুষ ঘরে বসে কাজ তথা ফ্রিল্যান্সিং করেছে! বিশ্বব্যাপী ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ বড় বড় কোম্পানি তাদের কাজের সময় বৃদ্ধি করা ও একই সাথে কাজ কারার বিভিন্ন বিকল্প সময় নির্বাচনের পদ্ধতি অনুসন্ধান করছে। এই কোম্পালিগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্রিল্যান্স কর্মীদের ফুলটাইম কর্মী হিসাবে নিয়োগ দিচ্ছে।

অপর এক গবেষণায় গবেষকরা ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ২০২০ সাল নাগাদ ফ্রিল্যান্সিংকে পিছু ফিরে দেখতে হবে না এবং ঐতিহ্যগত পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা একসময় থাকবে না! প্রতিবেদনটি আরও জানায় ফ্রিল্যান্সিং দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে যদি রাজনৈতিক নেতারা ফ্রিল্যান্সারদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করে।

আপওয়ার্ক পরিচালিত অপর এক জরিপে ফ্রিল্যান্সারদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তাদের অনলাইনে চাকরি খোঁজার শর্ত সম্পর্কে। এই জরিপে দেখা যায় স্বতন্ত্রভাবে ফ্রিল্যান্স অর্থনীতির পক্ষে ৪৯ শতাংশ, বিদ্যমান ট্রেডিশনাল অর্থনীতির পক্ষে ২৫ শতাংশ, অংশীদারী অর্থনীতির পক্ষে ১৩ শতাংশ এবং জিগ অর্থনীতির পক্ষে ১০ শতাংশ মানুষ অবস্থান নেয়।

ট্রেডিশনাল কর্মীদের অর্ধেক সময়ে ও মুল্যে ফ্রিল্যান্স্যার সমপরিমাণ কাজ করে থাকে; Source: infocostruzionilive.weebly.com

২. শ্রমব্যয় এবং অদক্ষতা হ্রাসে সহায়ক

প্রযুক্তি অগ্রগতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হওয়ায় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকার জন্য দক্ষ ও নিবেদিত কর্মী নিশ্চিত করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কোম্পানিগুলো তাদের ভোক্তা ধরে রাখার জন্য এমন কর্মীবাহিনী খোঁজে যারা দ্রুত সময়ের মধ্যে গতিশীল এবং প্রায় অসম্ভব পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।

অবশ্য একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, ফুলটাইম কর্মীরা তাদের ৫০ শতাংশ দক্ষতা ট্রেডিশনাল কাজের পদ্ধতির কারণে নষ্ট করে ফেলে আর ৫০ শতাংশ দক্ষতা ব্যবহার করে। অপরদিকে ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য কোম্পানিগুলো দক্ষ ফ্রিল্যান্স্যারদের ভাড়া করে এবং তাদের মূল্যবান উৎপাদনের জন্য ট্রেডিশনাল কর্মীদের তুলনায় মাত্র ৫০ শতাংশ অর্থ প্রদান করে। সুতরাং বলা যায়, ট্রেডিশনাল কর্মীদের অর্ধেক সময়ে ও মূল্যে ফ্রিল্যান্স্যার সমপরিমাণ কাজ করে থাকে, যা সাম্প্রতিক প্রতিযোগীতার বাজারে সব কোম্পানির কাম্য।

ফ্রিল্যান্সাররা অনেক বেশি দক্ষ এবং প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ ও প্রশংসিত হয়ে থাকে সাধারণ কর্মীদের তুলনায়; Source: startups.co.uk

৩. ফ্রিল্যান্সাদের বিশ্বজয় ও বিশ্ব নেতৃত্ব

ফ্রিল্যান্সাররা সময় বিবেচনায় তথা ঘন্টা-মিনিট মেপে অর্থ রোজগার করেন এবং নতুন নতুন নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করেন। তাই ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে বিশ্ব নেতৃত্বের ও বিশ্বজয় করতে ভয় পায় না। ফ্রিল্যান্সাররা সবসময় নিজেদের সক্রিয় রাখে এবং যেকোনো কাজের জন্য প্রস্তুত থাকে। তারা অনেক বেশি দক্ষ এবং প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ ও প্রশংসিত হয়ে থাকে সাধারণ কর্মীদের তুলনায়।

তবে একটি জরিপে দেখা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৪ শতাংশ নিয়োগকারী বর্তমান কাজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী নয় যে, তারা এখন যা করছে তা ১০ বছর পর আদৌ থাকবে কিনা! সুতরাং কেন আমরা এখনই বিভিন্ন কাজ একসাথে নির্বাচন করে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করছি না? ফ্রিল্যান্সারদের একটা বড় সুবিধা যে তারা ইচ্ছামতো তাদের স্বাস্থ্যের পরিকল্পনা করতে পারে যেখানে ফুলটাইম কর্মীদের স্বাস্থ্যবীমার আশ্রয় নিতে হয়।

গুগলের পাশাপাশি ফেসবুক, লিঙ্কড ইন এবং টুইটার মত অন্যান্য সোশাল সাইট ফ্রিল্যান্সারদের ঘরে বসে অনলাইনে কাজ খুঁজতে সহায়তা করে; Source: canadiansinternet.com

৪. শুধু ইন্টারনেটই কাজের সহজ ও নির্ভরযোগ্য উৎস

গুগল সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সাররা অনলাইনে খুব সহজে এবং স্বল্প সময়ে অনেক বেশি কাজ খুঁজতে পারেন। পাশাপাশি তারা দ্রুত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারে। শুধুমাত্র গুগল নয়, গুগলের পাশাপাশি ফেসবুক, লিঙ্কডইন এবং টুইটার মত অন্যান্য সোশাল সাইট ফ্রিল্যান্সারদের ঘরে বসে অনলাইনে কাজ খুঁজতে সহায়তা করে। আবার অনেকগুলো ক্লাউড-ভিত্তিক ওয়ার্কপ্লেস রয়েছে যা ফ্রিল্যান্সারদের তাদের ক্লায়েন্টদের সাথে সংযুক্ত করে। আজকাল সকল কর্মী যে কোনো কাজে অংশ নিতে পারে খুব সহজে তবে কোম্পানিগুলোর পার্থক্যের বিষয় হলো ‘অনুসন্ধান’ এবং ‘ফিল্টার’ পদ্ধতি।

সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা তরুণরা যে কোন প্রকল্পে বা প্রোগ্রামে কাজ করতে পারে; Source: columbiavalley.com

৫. তরুণ প্রজন্মের কাজের স্বাধীনতা ও নমনীয়তা

২১ শতকের তরুণ প্রজন্ম স্মার্টফোন হাতে বেড়ে উঠছে। তাদের হাতে রয়েছে 4G ইন্টারনেট সংযোগ। নেটওয়ার্কিংয়ের নানা মাধ্যম ও আধুনিক সামাজিক জীবন সম্পর্কে তারা সচেতন। যদিও তাদের জীবন অনেক গতিময় এবং দ্রুত, তবুও ব্যক্তিগত জীবনে কখনো কখনো সমস্যা আসতে পারে, হঠাৎ ছন্দপতন হতে পারে। আর এমন মানুষের জন্য ফ্রিল্যান্স ইন্ডাস্ট্রি আর্শীবাদ স্বরুপ। সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা তরুণরা যে কোনো প্রকল্পে বা প্রোগ্রামে কাজ করতে পারে, কিন্তু তারা গতানুগতিক নিয়োগকর্তাদের মতো মানসিকতার নয়, তাই তারা ফ্রিল্যান্সিং করতে লজ্জাবোধ করে না।

এ প্রজন্মের কাছে দশকব্যাপী সময় ধরে কোনো একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিতে কাজ করা শাস্তি বলে মনে হতে পারে এবং এই কারণে তাদের সেরা কাজটা আমরা নাও পেতে পারি। সুতরাং, আপনি যদি সদ্য কর্ম জীবন শুরু করতে চান বা সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করে থাকেন অথবা একজন ব্যর্থ ব্যবসায়ী হন, তবে আপনার জন্য ২০১৮ সালের সেরা সুযোগ ফ্রিল্যান্স্যার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করা। আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যান সামনের দিকে আবিষ্কার করুন নিজেকে।

তথ্যসূত্র:ক্যারিয়ার ল্যান্সার অবলম্বনে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *