ই-কমার্স সাইটের সাধারণ যেসব ভুল সম্পর্কে বেশিরভাগ উদ্যোক্তা জানেন না

অনলাইন কেনাকাটা খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। প্রতিনিয়ত এখানে গ্রাহক এবং ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। আগে শুধু শিক্ষিত তরুণরা অনলাইন থেকে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও বর্তমানে অপেক্ষাকৃত বয়স্ক এবং গৃহিণীরা অধিক হারে অনলাইন থেকে কেনাকাটা করছে। খুব দ্রুত অনলাইনের এই বাজার অফলাইনের বাজারের বিকল্প এবং প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। যার ফলে বড় বড় ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অফলাইনের অনেক ব্যবসায়ীও বাধ্য হয়ে ই-কমার্স ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে। তাছাড়া অসংখ্য তরুণ উদ্যোক্তা ছোট পরিসরে ই-কমার্স ব্যবসায় নাম লেখাচ্ছে।

Photo : REES46

অনলাইনের রাঘববোয়াল ব্যবসায়ীরা সবদিক থেকেই পরিপূর্ণ। যার ফলে তারা খুব দ্রুত নতুন নতুন পণ্য বাজারে এনে অনলাইন ব্যবসায় সফল হচ্ছে। প্রচুর মুনাফা করার সুযোগ থাকায় তারা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বিশেষ অফার এবং মূল্য ছাড়ের ব্যবস্থা করছে, যার ফলে তাদের সাফল্যের পাল্লা দিনের পর দিন ক্রমশ ভারী হচ্ছে। এর বিপরীতে অপেক্ষাকৃত তরুণ উদ্যোক্তারা নানা রকম জটিলতার কারণে পিছিয়ে পড়ছে। প্রতিষ্ঠিত এবং বড় ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় তরুণরা টিকে থাকতে পারছে না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ই-কমার্স সাইটের এমন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভুল উঠে এসেছে, যার ফলে ই-কমার্স সাইটগুলো ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। আজকের নিবন্ধে নতুন ই-কমার্স সাইটের এমন কিছু সাধারণ ভুল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।


দুর্বল কনটেন্ট ও সাইট এক্সেস


সাধারণ ক্রেতারা সুপরিচিত বড় ই-কমার্স সাইটগুলো আপনা থেকেই ভিজিট করে এবং পণ্য কিনে থাকে। কেননা ইতিমধ্যেই তারা ভালো ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে অপেক্ষাকৃত নতুন ই-কমার্স সাইটগুলো ক্রেতা দর্শক আকর্ষণ করতে হিমশিম খায়। ক্রেতা দর্শক আকর্ষণ করার সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো উপযুক্ত হেডলাইন এবং ট্যাগ ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের যথাযথ এসইও করা, যেন সাইটটি সার্চ ইঞ্জিনগুলো ইন্ডেক্স করতে পারে। কিন্তু অসংখ্য ই-কমার্স উদ্যোক্তা জানে না ওয়েবসাইটকে কিভাবে সার্চ লিস্টে নিয়ে আসতে হয়। তারা সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে সাইটের কনটেন্ট স্বাধীনভাবে প্রদর্শনের অনুমতি দেয় না। যার ফলে অসংখ্য ভালো কনন্টেন্ট ও পণ্য থাকা সত্ত্বেও সাইটটি সার্চ লিস্টে আসে না।

Photo : Walls

আবার অনেক ই-কমার্স উদ্যোক্তা দ্রুত সাইট সার্চ লিস্টে আনার জন্য অন্য ওয়েবসাইটের কপি কনটেন্ট ব্যবহার করে, যার ফলে ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ তার ইচ্ছার উল্টো পথে হাঁটা শুরু করে।

ই-কমার্স সাইটের সাফল্যের জন্য এসকল দুর্বলতা দূর করতে হবে। স্বাধীনভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং সার্চ ইঞ্জিনকে ওয়েবসাইটের এক্সেস দিতে হবে। দুর্বল কনন্টাক্ট না দিয়ে মৌলিক এবং আকর্ষণীয় পণ্য ও কনন্টেন্ট আপলোড করতে হবে।


ইন্টার্নাল বা অভ্যন্তরীণ লিংক


ইন্টার্নাল বা অভ্যন্তরীণ লিংক একটি ওয়েবসাইটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েবসাইটটি অধিক পরিচিত করে তুলতে এবং ব্যবহারকারী ও অনুসন্ধানকারীদের কনন্টেন খুঁজে পেতে অভ্যন্তরীণ লিংকিং সাহায্য করে। কিন্তু সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো অধিকাংশ ই-কমার্স সাইট অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে অভ্যন্তরীণ লিংক তৈরি করার ব্যাপারে উদাসীন। এ থেকে বোঝা যায় বড় অঙ্কের বিপণন বাজেট নিয়ে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোও অসংখ্য সাধারণ ভুল করে।


সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে পেজ ইন্ডেক্সের অনুমতি


সাইটম্যাপ সার্চ ইঞ্জিনকে ওয়েবসাইটের পেজগুলি খুঁজে পেতে এবং নতুন কিছু আপলোড করলে জানতে সহযোগিতা করে। তাই ওয়েবসাইটের পেজগুলো সাইটম্যাপে থাকা উচিত। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, ওয়েবসাইটের সকল পেজ সাইটম্যাপে থাকতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে ই-কমার্স সাইটের এমন অনেক পেজ সাইটম্যাপে থাকে যা সাইটম্যাপে থাকার কথা না। এমনকি সার্চ লিস্টে আসারও কথা না।

Photo : Program Age

ওয়েবসাইটের এমন অবস্থার কারণে সাধারণ ক্রেতা এবং দর্শক সার্চ করে ওয়েবসাইট দেখে বিভ্রান্ত হতে পারে, আগ্রহ হারাতে পারে। একজন ক্রেতা যদি গুগল সার্চ করে আপনার সাইটের যথাযথ পণ্যটি না পায় তাহলে দ্বিতীয়বার সে আর আপনার সাইটে আসবে না। সুতরাং খুব সতর্কতার সাথে সাইটম্যাপ ঠিক করতে হবে।


সাইটের নিরাপত্তা


ইন্টারনেটে যেমন অসংখ্য ওয়েবসাইট আছে, তেমনি অসংখ্য দুষ্কৃতিকারীও আছে। তাই ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর ই-কমার্স সাইটের জন্য এই নিরাপত্তা অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Photo : Go Daddy

কেননা এখানে পণ্য কেনাবেচা হয়, অর্থের লেনদেন হয়। তাই যথাযথ নিরাপত্তা নেই, এমন সাইট থেকে পণ্য কিনতে সচেতন ক্রেতারা কখনোই আগ্রহী হবেন না। অথচ বেশীরভাগ ই-কমার্স ব্যবসায়ী সাইটের নিরাপত্তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করেন না। যার ফলে এর বিরূপ প্রভাব তাদের ব্যবসার উপর পড়ে।


দুর্বল পারফরম্যান্স


অনলাইন থেকে কেনাকাটায় মানুষ সুন্দর অভিজ্ঞতা আশা করে। আপনার সাইটের পেজ লোড হতে কতটা সময় নিচ্ছে তার উপর ক্রেতার ভালো লাগা-মন্দ লাগা বা আপনার সাইটে অবস্থান করা নির্ভর করে।

এমনকি ওয়েবসাইট সার্চ লিস্টে এগিয়ে থাকার জন্য সাইটের পারফরম্যান্স বড় ভূমিকা রাখে। অনেক ই-কমার্স উদ্যোক্তা বিষয়টি জানে না। তাই সাইটের গতি বাড়ানোর জন্য অপটিমাইজ করা হয় না। যার ফলে আকর্ষণীয় পণ্য এবং সুযোগ সুবিধা থাকা শর্তেও সাইটগুলো অধিক হারে ক্রেতা দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়।


ভুল এসইও


ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এসইও অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এই এসইও করতে গিয়েও অনেক ভুল হয়। প্রথমত আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে আপনার পণ্যের টার্গেট কাস্টমার কারা। তারা কোথায় বসবাস করে, তাদের বয়স কেমন এবং তারা কেমন শব্দচয়ন করে পণ্য খুঁজতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে।

Photo : Medium

যেমন আপনার সাইটের পণ্য যদি আন্তর্জাতিকভাবে বিক্রয় করার ইচ্ছা থাকে তবে নিশ্চয়ই আপনাকে আন্তর্জাতিকভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকা অন্যান্য সাইটের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হবে। সুতরাং এসইও করতে হবে আন্তর্জাতিক বাজার বিবেচনা করে। আবার যদি আপনার টার্গেট কাস্টমার বাংলাদেশি হয়ে থাকে তবে আপনাকে এসইও করতে হবে বাংলাদেশি কাস্টমার বিবেচনা করে। এই সহজ পার্থক্যটা অনেক ই-কমার্স উদ্যোক্তা জানেন না। যার ফলে তারা ভুল ভাবে সাইটের এসইও করান এবং ব্যবসায় ব্যর্থ হন।
বেশির ভাগ তরুণ উদ্যোক্তা ই-কমার্স ব্যবসায় পিছিয়ে থাকার জন্য মোটামুটি ভাবে উপরিউক্ত বিষয়গুলো দায়ী। এই বিষয়গুলো সমাধান করলে আশা করা যায় ই-কমার্স সাইটের পারফর্মেন্স বাড়বে এবং ধীরে ধীরে আশানুরূপ ক্রেতা দর্শক আকর্ষণ করা সম্ভব হবে।

Feature Photo : REES46

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *