আমি বলেছিলাম সিভির কভার লেটার লেখা নিয়ে সিরিজ রচনা লিখবো। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে দুইট নিবন্ধ প্রকাশ হয়েছে। এই নিবন্ধগুলোতে আমি পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করেছি কিভাবে আকর্ষণীয় সিভি কভার লেটার লিখতে হয় এবং কভার লেটার লেখার সময় কী কী বিষয় বর্জনীয় ইত্যাদি।

photo: novoresume

আজকের নিবন্ধে আমি জানাবো এমন কিছু বিষয় যা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং যোগ্যতার পরিচালক। যা ব্যাক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, এমনকি কোনো কোনো ব্যক্তির মধ্যে অনুপস্থিত থাকতে পারে। এমন সৃজনশীল এবং বিশেষ দক্ষতা গুলো কিভাবে সংক্ষিপ্ত আকারে সিভি কভার লেটারে যুক্ত করবেন, এবং নিয়োগকর্তার মনযোগ আকর্ষণ করবেন।

১. সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরুন

আপনি যদি কোনো সৃজনশীল এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রের ব্যক্তি হয়ে থাকেন এবং এ সম্পর্কিত কোনো চাকরির জন্য আবেদন করে থাকেন তবে আপনার জন্য বিশেষ কিছু করার সুযোগ আছে। এই ধরনের পোস্টে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকারীরা এমন আবেদনকারীকে খোঁজেন যার দূরদর্শিতা সবচেয়ে বেশি এবং যেকোন সমস্যার সৃষ্টি হওয়ার আগেই সমাধান করে ফেলেন।

photo: the king tips

সুতরাং আপনি সিভির কভার লেটারে সাম্প্রতিক একটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করুন। এটি আপনার বিচক্ষণতার পরিচায়ক। নিয়োগকর্তা আপনার এই বক্তব্য পড়ে অনুধাবন করতে পারবেন আপনি তাদের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্বন্ধে জানেন, এবং ইতিমধ্যে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

তবে অবশ্যই বিতর্কিত বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকুন। যদি আপনি কোনো সৃজনশীল ক্ষেত্রের ব্যাক্তি না হয়ে থাকেন তবে এই অংশটি আপনার জন্য প্রযোজ্য নয়।

২. ব্যর্থতার গল্পও বলুন

নিশ্চয়ই অবাক হয়েছেন? সিভির কভার লেটারে কেউ নিজের ব্যর্থতার গল্প বলে! কেউ বলে না সত্যি, কিন্তু আপনি বলবেন। অবশ্য তখনই বলবেন যখন ব্যর্থতার পর কোনো বিরাট সাফল্যের গল্প থাকবে। এটি খুবই বিচক্ষণ একটি উদ্যোগ।

ভুলে যাবেন না আমরা কেউই আবেগ-অনুভূতির ঊর্ধ্বে নয়, এবং একটি ছোট্ট অনুভূতি মানুষের যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দিতে পারে। সুতরাং সাবধানতার সাথে এই কৌশলটি আপনি প্রয়োগ করতে পারেন।

photo: thesil

তবে তার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন ব্যর্থতার পর আপনার কোনো সাফল্যের গল্প আছে কিনা, কোন পুনরুজ্জীবন, বা সাফল্যের গল্প আছে কিনা।

উদাহরণস্বরূপ আপনি কলেজে পড়াকালীন প্রচন্ড আর্থিক সংকটে পড়েন এবং সে কারণে আপনার শিক্ষা জীবন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়। এই কারণে আপনার শিক্ষাজীবনে দুই এক বছরের গ্যাপ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আপনি শেষ পর্যন্ত দমে যাননি। সাফল্যের সাথে শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন।

এই ব্যর্থতার গল্পটি আপনার আত্মবিশ্বাস এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করে। এমন মানুষকে নিয়োগকর্তারা নিয়োগ দিতে বেশি আগ্রহী হয়ে থাকে। কেননা তারা জানে কিভাবে সময় ব্যবস্থাপনা করতে হয়, এবং সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সাফল্য ছিনিয়ে আনতে হয়।

৩. নেটওয়ার্কিং অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন

আপনি নিয়োগকর্তার কাছে একটি ফরমাল আবেদনপত্র পাঠাচ্ছেন তার অর্থ এই না ইনফরমাল কোনকিছু নিয়োগকর্তা জানেন না। শিক্ষা জীবন এবং কর্ম জীবনের অভিজ্ঞতার বাইরে আপনার নেটওয়ার্কিং দক্ষতা সম্বন্ধে বলতে ভুলবেন না।

photo: linkedin

ব্যক্তিগত এবং কর্মজবনের দক্ষতার সমন্বয় ঘটে এমন বিষয়গুলো উল্লেখ করতে ভুলবেন না। আবেদনপত্রে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কিং অভিজ্ঞতার স্পর্শ আপনার আবেদনকে বিশিষ্টতা দান করে, যা কলব্যাক পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

৪. নিয়োগকর্তার সাথে মিল খুঁজে বের করুন

আপনার নিয়োগকর্তার সাথে নিজের কিছু মিল খুঁজে বের করুন, অথবা তার সাথে কোনভাবে সম্পর্কিত বিষয়কে হাইলাইট করার চেষ্টা করুন। যেমন কোনো ভিন্ন একটি প্রকল্পে আপনারা একই সাথে কাজ করে থাকতে পারেন, অথবা উক্ত প্রতিষ্ঠানে আপনি ইন্টার্নশিপ করে থাকতে পারেন। এমনকি আপনার ব্যবস্থাপক এবং আপনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করতে পারেন।

এভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করুন এবং আপনার নিয়োগকর্তার সাথে মিল খুঁজে বার করুন। তারপর সেই বিষয়গুলো কভার লেটারে অবশ্যই উল্লেখ করুন। স্বভাবতই মানুষ নিজের সাথে সম্পর্কিত কোনো বিষয় খুঁজে পেলে তার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে থাকে। সুতরাং এই কৌশলটি কাজে লাগিয়ে আপনার কভার লেটার নিয়োগকর্তার কাছে আকর্ষণীয় করে তুলুন।

৫. আবেদন সম্পর্কিত ব্যক্তিগত গল্প

বিনয়ী, মিতভাষী এবং পরিপাটি হবেন সত্যি। কিন্তু ভুলে যাবেন না আপনি নিজে একটি ব্র্যান্ড। হ্যাঁ, আপনি নিজেই একটি ব্র্যান্ড। এমনকি আপনি আপনার নিয়োগকর্তার জন্য একটি সমাধান হতে পারে। কেননা আপনার মত কাউকেই খুঁজছে আপনার নিয়োগকর্তা।

photo: brain programs

আপনি যেমন নিয়োগকর্তাকে আকৃষ্ট করতে চান, আপনার নিয়োগকর্তাও আপনার মতো আকর্ষণীয় কাউকে খুঁজে পেতে চান। সুতরাং এই আবেদনের সাথে সম্পর্কিত কোনো অনুপ্রেরণামূলক গল্প কী আছে আপনার জীবনে? আপনার জীবনের এমন কোনো অতীত অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি, বা অনুপ্রেরণার গল্প, যা সুনির্দিষ্টভাবে এই পদে চাকরির আবেদনকে আরও উজ্জ্বল করে, এমন কোনো গল্প থাকলে তা খুব সংক্ষেপে সিভির কভার লেটারে উল্লেখ করুন। আমি পূর্ববর্তী একটি নিবন্ধ বলেছিলাম সিভি কভার লেটার সৃজনশীলতা চর্চার জায়গা নয়। কিন্তু তার অর্থ এই নয় সম্পর্কিত কোনো বিষয় উল্লেখ করা যাবে না।

সাম্প্রতিককালে বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হওয়া ফ্রান্সের একটি ঘটনা বলতে চাই। ফ্রান্সের একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার হাত থেকে একটি শিশুকে উদ্ধার করে আফ্রিকান এক নাগরিক, যে কিনা ফ্রান্সে একজন অবৈধ অভিবাসী ছিলেন। অথচ এই ঘটনার পর ওই আফ্রিকান নাগরিককে ফ্রান্স সরকার নাগরিকত্ব দেয়, এবং ফায়ার সার্ভিসে চাকরিও দেয়।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন আবেদন সম্পর্কিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, উপলব্ধির গুরুত্ব কত বেশি!