পুরোনো চাকরি অনুসন্ধানকারী হিসেবে কীভাবে চাকরি পাবেন

অনেক পুরনো চাকরি অনুসন্ধানকারীই চাকরি খোঁজ করতে গিয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। তারা ধরেই নেয় যে, চাকরি হচ্ছে নতুনদের জন্য এবং পুরনোদের চাকরির ক্ষেত্র নেই বললেই চলে। কিন্তু এ বক্তব্য মোটেও সঠিক নয়। পুরনো চাকরি অনুসন্ধানকারীদের জন্যও রয়েছে প্রচুর কাজের ক্ষেত্র। যথাযথভাবে চাকরি অনুসন্ধান করলে, খুব সহজেই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের চাকরিটি; এতে বয়স কোনো বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না।

Source: usatoday.com

পৃথিবীতে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা বয়স্কদের চাকরি দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। আপনাকে তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। শুধু ঘরে বসে থেকে দুশ্চিন্তা করলেই আপনি চাকরি পাবেন না। পুরনো চাকরি অনুসন্ধানকারী হয়েও কীভাবে সহজে পছন্দের চাকরিটি পাবেন। এ সংক্রান্ত দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ জানতে, এই আর্টিকেলটি পড়ুন। কারণ আমি এই আর্টিকেলটিতে আলোচনা করবো, কীভাবে একজন পুরনো চাকরি অনুসন্ধানকারী তার পছন্দের কাজ খুঁজে পাবে।

১. প্রাসঙ্গিক থাকুন

অধিকাংশ পুরোনো চাকরি অনুসন্ধানকারীই প্রচুর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু তারা তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে আধুনিক ও ডিজিটালভাবে কিংবা যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে উপস্থাপন করতে পারে না। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, নেটওয়ার্ক তৈরিসহ চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ।

Source: reed.co.uk

কিন্তু এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও, তাদের তেমন উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয় না। এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যারা আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরির উপায় হিসেবে, প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইলকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকে। আবার শুধু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সজাগ থাকলেই হবে না। বরং আপনাকে সময়ের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলতে সক্ষম হতে হবে। কিছু কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলো ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেতে হলে, আপনাকে অবশ্যই ব্যবসার সঙ্গে তালমিলিয়ে পরিবর্তিত হওয়ার গুণাবলি আয়ত্ত্ব করতে হবে।

Source: thebalancecareers.com

তাই একথা বলা যায় যে, আপনি যদি যুগের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা রেখে, নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন। তবে পুরনো চাকরি অনুসন্ধানকারী হিসেবে খুব সহজেই চাকরি পেয়ে যাবেন।

২. জীবনবৃত্তান্তে পরিবর্তন নিয়ে আসুন

এমনটি হওয়া স্বাভাবিক যে, আপনার জীবনবৃত্তান্তটি এক দশকের কিংবা কয়েক দশকের পুরাতন। আপনি যখন কর্মজীবনের শুরুতে চাকরি খোঁজ করছিলেন, তখন হয়তো এই সিভি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু আপনি যখন পুরোনো চাকরি অনুসন্ধানকারী হিসেবে কাজ খোঁজ করবেন, তখন ভুলেও সেই পুরাতন সিভি আবেদন পত্রের সঙ্গে জমা দেবেন না।

Source: expatica.com

আপনাকে অবশ্যই হালনাগাদকৃত সিভি জমা দিতে হবে। আবার আপনি যেহেতু বয়স্ক মানুষ, তাই আপনার প্রচুর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন হয়েছে; এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে, সব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সিভিতে তুলে ধরবেন না। কারণ আপনার সব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা জীবনবৃত্তান্তে অন্তর্ভুক্ত করতে গেলে, সিভি তার সৌন্দর্য হারাবে। তাই চাকরির সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সিভিতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে বিরত থাকুন। শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাগুলো দিয়ে সুন্দর ভাবে সিভি সাজানোর চেষ্টা করুন। এবার যখন এই আপডেট সিভি নিয়োগকর্তাদের কাছে পৌঁছাবে, তখন আপনার প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হবে। এতে আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যাবে। উপরন্তু আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন যে, আপনি দীর্ঘদিন যাবৎ সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হননি।

Source: rnib.org

তাই সাক্ষাৎকার দিতে যাওয়ার আগেই বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার অনুশীলন করুন। এতে আপনি ভাইভা বোর্ডে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাতে সক্ষম হবেন। আর ফলাফলস্বরূপ, আপনার চাকরিটি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে।

৩. নিজের শক্তির সঙ্গে লড়াই করুন

মনে রাখুন, আপনি একজন পরিপক্ক চাকরি অনুসন্ধানকারী। তাই তরুণ চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে আপনার তেমন কোনো প্রতিযোগিতায় নামতে হবে না। বরং আপনাকে আপনার সক্ষমতা ও শক্তির সঙ্গেই প্রতিযোগিতা ও লড়াই করতে হবে। কীভাবে নিজের শক্তির সঙ্গেই লড়াই কিংবা প্রতিযোগিতা করবেন? ধরুন, আপনি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, সেখানে কাজ করার মাধ্যমে আপনি ভালো যোগাযোগের দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের কৌশল, নেতৃত্ব ইত্যাদি গুণাবলির আয়ত্ত্ব করেছেন।

Source: indeed.com

এখন আপনি যদি আপনার ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চান, তবে আপনাকে শুধু এই দক্ষতা ও যোগ্যতাগুলোই প্রকাশ করলে হবে না। বরং আপনাকে প্রকাশ করতে হবে কিংবা গুরুত্ব দিতে হবে, আপনার মধ্যে হস্তান্তরযোগ্য ও রূপান্তরমূলক কী কী যোগ্যতা ও দক্ষতা আছে, এগুলোর উপরে। এখন আপনি যদি প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন যে, আপনি পরিবর্তনশীল পরিবেশে নিজেকে সহজেই খাপ-খাইয়ে নিতে পারেন। আবার বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে উদাহরণ দিয়ে, যদি নিয়োগকর্তাদের আপনার সক্ষমতা বোঝাতে সক্ষম হন, তবে আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর যদি এই দক্ষতা ও যোগ্যতার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারেন, তবে আপনি নতুন চাকরিটিও পাবেন না এবং আপনার চাকরি পরিবর্তন করার আকাঙ্ক্ষাও পূর্ণ হবে না।

Source: todayonline.com

আবার এই ভেবে খুশি হবেন না যে, তরুণ চাকরি প্রার্থীদের চেয়ে আপনার দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বেশি আছে। কারণ আপনাকে তরুণ চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে নয়, বরং আপনার নিজের সঙ্গেই প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। তাই আপনি আপনার নিজের সক্ষমতা ও শক্তির সঙ্গেই লড়াই ও প্রতিযোগিতা করুন।

৪. শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকুন

আপনার বয়স বেড়ে গেছে, এই কারণে শিক্ষা অর্জন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবেন না। বরং প্রতিনিয়ত নতুন জ্ঞান আহরণ করুন। জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের কোনো বয়স কিংবা সীমাবদ্ধতা নেই। যেকোনো বয়সে যেকোনো সময়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করা যায়। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত, এমন ব্যক্তিকে চাকরি দিতে পছন্দ করে, যে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখে কিংবা শেখার আগ্রহ বিদ্যমান আছে।

Source:nytimes.com

আবার জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি নিজের মনোজগতে নমনীয়তা নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। যখন আপনি পুরনো চাকরি অনুসন্ধানকারী হিসেবে কাজ খোঁজ করবেন, তখন নিজেকে বয়স্ক হিসেবে চিন্তা করবেন না। বরং আপনি নিজেকে একজন নবীন চাকরি প্রত্যাশী হিসেবে ভাবুন। এতে মনে ইতিবাচক ধারণা জন্ম নেবে এবং চাকরি খোঁজায় আগ্রহবোধ করবেন। এই পরামর্শ ও দিকনির্দেশনাগুলো মাথায় রেখে, আপনি চাকরি অনুসন্ধান করলে, খুবই সহজে আপনি আপনার পছন্দের চাকরি কিংবা কাজ পেয়ে যাবেন।

Featured Image:Futurity.org

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *