কীভাবে একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন

যদি আপনি মার্কেট অপারেশন বা টাকাপয়সার লেনদেনের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে থাকেন কিংবা ফাইন্যান্স ও অর্থনীতির উপর কাজ করতে চান, তাহলে একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। রিটেইল বা হাই স্ট্রিট ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবেও ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। চলুন জেনে আসি, কীভাবে একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

Source: cohesiveglobal.com

একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার কী কী কাজ করে থাকেন?

ফ্যাইন্যান্স খাতে মূলত দুই ধরণের ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার রয়েছেন। রিটেইল ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার ও কর্পোরেট ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার। চলুন জেনে নেয়া যাক, একজন রিটেইল ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজারের কাজগুলো,

১. ফাইন্যান্স, অর্থনীতি, হিসাবরক্ষণ বিভাগকে ট্রেইনিং করানো, ম্যানেজ করানো ও রিক্রুটমেন্টে সাহায্য করা।

২. ফ্রন্ট লাইনের কাস্টোমার হেল্পে সাহায্য করা।

৩. হেড অফিস থেকে যেসব নতুন পণ্য, সার্ভিস ও প্রসেস যুক্ত করা হয়েছে বা হবে, সেগুলোর দেখাশোনা করা।

৪. ফ্যাইন্যান্স খাতের জন্য মার্কেটিং প্ল্যান তৈরি করা।

৫. সেলস টার্গেট পূর্ণ করা ও বাজেট সংক্রান্ত সমস্যাগুলো ম্যানেজ করা।

৬. কাস্টোমারের সমস্যাগুলো চিঠি, মেইল ও সরাসরি সমাধান করা।

৭. কাউন্টারের মনিটরিং করা।

৮. কাস্টোমারের চাহিদা সম্পর্কে অবগত হওয়া ও সে অনুযায়ী পণ্য ও সেবার ব্যবস্থা করা।

৯. বিভিন্ন ধরণের অ্যাকাউন্টজনিত সমস্যার সমাধান করা ও সেলসের পেপারওয়ার্ক করা।

১০. নতুন নতুন পণ্য, সেবা ও প্রসেসের সাথে যুক্ত থাকা ও সেগুলো আয়ত্ব করা।

Source: thebalancesmb.com

এখন চলুন জেনে নিই, একজন কর্পোরেট ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার কাজগুলো,

১. বিভিন্ন ধরণের ফাইন্যান্সিয়াল মডেল তৈরি করা।

২. ভ্যালু ডেট, ইক্যুইটি মার্জার, অ্যাকুইজিশন এবং ক্যাপিটাল রাইজিং ট্র্যাঞ্জেকশনের ব্যবস্থাপণা করা।

৩. বিভিন্ন ধরণের ভ্যালুয়েশন মেথড তৈরি করা।

৪. কম্পেরেবল কোম্পানি, প্রিসিডেন্ট ও ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লোর (ডিসিএফ) ব্যবস্থাপণা করা।

৫. প্রোডাক্ট অফারিং, প্রাইভেট ইক্যুইটি ট্র্যাঞ্জেকশন, মার্জার ও অ্যাকুইজিশন এবং ভ্যালুয়েশন সম্পর্কে রেকোমেন্ডেশন ডেভেলপ করা।

৬. ক্লায়েন্ট ফাইন্যান্সিং, ইনভেস্টমেন্ট মেমোরেন্ডাম, ম্যানেজমেন্ট প্রেজেন্টেশন এবং পিচবুক ডেভেলপ ও মনিটরিং করা।

৭. ব্যবসার প্রসারের জন্য ক্লায়েন্টের সাথে রিলেশনশিপ ডেভেলপ করা।

৮. ডিউ ডিলিজেন্স ও লাইভ ট্র্যাঞ্জেকশন রিসার্চ, অ্যানালাইসিস ও ডকুমেন্টেশন করা।

৯. ক্লায়েন্টের পোর্টফোলিও তৈরির জন্য প্রেজেন্টেশন ডেভেলপ করা।

১০. বিভিন্ন ইভেন্ট, ক্রিটিক্যাল ইস্যু ও রেলেভেন্ট খবরাখবর সম্পর্কে মনিটরিং করা।

Source: blogs6.com

একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

রিটেইল ফ্যাইন্যান্স খাতে ক্যারিয়ার গড়ার পূর্বে ইক্যুইটি রিসার্চার, সেলস এন্ড ট্রেডার, ডিউ রিসার্চার, ট্র্যাঞ্জেকশন অ্যাডাভাইজার অথবা ভ্যালুয়েশনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। উপরোক্ত পদগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে কর্পোরেট ডেভেলপার, ইনভেস্টর রিলেশনশিপ বিল্ডার, ট্রেজারি, ইন্সটিটিউশনাল রিসার্চার, পোর্টফোলিও ম্যানেজার অথবা ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

Source: oxbridgeacademy.edu

একজন সিনিয়র লেভেলের ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হওয়ার পুর্বে আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে ফ্যাইন্যান্স খাতের অন্য রকমের কিছু পেশার দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকলে, তাতে আপনার জন্য ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে, আপনাকে যে সকল বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে তা হচ্ছে,

১. কাস্টোমার সার্ভিসিংয়ে দক্ষ হতে হবে।

২. সেলস অরিয়েন্টেড হতে হবে।

৩. যোগাযোগ দক্ষতায় পারদর্শী হতে হবে।

৪. যেকোনো পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৫. লিডারশীপের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৬. যেকোনো টিমকে ফাইন্যান্স, অর্থনীতি, ব্যবসা এবং মার্কেটিং সংক্রান্ত বিষয়গুলোর উপর ট্রেইনিং করানোর ও ব্যবস্থাপনা করার দক্ষতা থাকতে হবে।

৭. ফ্যাইন্যান্স খাতকে ব্যবসায় পরিণত করার দক্ষতা থাকতে হবে।

৮. ট্র্যাঞ্জেকশন অ্যানালাইসিস করার দক্ষতা থাকতে হবে।

৯. ফাইন্যান্স, অর্থনীতি ও ব্যবসা খাতে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে যথেষ্ট দক্ষ হতে হবে।

১০. ডিজিটাল মার্কেটিং ও অন্ট্রারপ্রিনিয়ারশীপ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

১১. দলগতভাবে কাজ করায় পারদর্শী হতে হবে।

১২. ডিল স্ট্রাকচারিং ও ক্লোজিং প্রিন্সিপ্যাল সম্পর্কে দক্ষ হতে হবে।

১৩. যেকোন বিষয়ে রিসার্চ করার দক্ষতার পাশাপাশি কোয়ান্টিটিভ, অ্যানালিটিক্যাল ও মার্কেট ইভেন্টিংয়ের দক্ষতা থাকতে হবে।

১৪. মাইক্রোসফট অফিস টুলস ও ভিজ্যুয়াল ব্যাসিক প্রোগ্রামিং ভাষায় যথেষ্ট দক্ষ হতে হবে।

১৫. ট্র্যাক ওভারল্যাপিং ও ফাইন্যান্সিয়াল মডেল অ্যাসাইনমেন্টের উপর যথেষ্ট দক্ষ হতে হবে।

Source: yourfreecareertest.com

একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজারের কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে?

একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবে ফ্যাইন্যান্স খাতে ক্যারিয়ার শুরু করার পূর্বে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ব্যবসায় শিক্ষা, অর্থনীতি, ফাইন্যান্স, ম্যানেজমেন্ট অথবা বিজনেস অ্যানালাইসিসের উপর কমপক্ষে দুই থেকে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা যায়।

Source: quora.com

একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজারের কী ধরণের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে?

একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করার পূর্বে, আপনাকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ব্যবসায় শিক্ষা, ডিজিটাল মার্কেটিং, বিজনেস সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস রিসার্চ ও অ্যানালাইসিস, অন্ট্রারপ্রিনিউয়ারশীপ অথবা অর্থনীতির উপর কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।

Source: kiplinger.com

একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজারের বেতন কেমন হতে পারে?

যদি ফ্যাইন্যান্স খাতে একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে আপনার বাৎসরিক বেতন এন্ট্রি লেভেল ও সিনিয়র লেভেলে ভিন্ন ভিন্ন হবে। এন্ট্রি লেভেলের একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজারের বাৎসরিক বেতন হয় সর্বনিম্ন ৩০ লক্ষ টাকা থেকে ৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। সিনিয়র লেভেলের একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজারের বাৎসরিক বেতন হয় সর্বনিম্ন ৪০ লক্ষ টাকা থেকে থেকে ৯০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

Source: usnews.com

এছাড়াও, ফ্যাইন্যান্স খাতের অন্যান্য পদে বেতন স্কেলে তারতম্য দেখা যায়। যেমন: একজন ব্যাংক ম্যানেজারের বাৎসরিক বেতন ৪০ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়। আবার, একজন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্টের বাৎসরিক বেতন ২০ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

Source: careerexplorer.com

একজন ফ্যাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়াটা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে, যদি আপনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ফাইন্যান্স, ম্যানেজমেন্ট অথবা প্রোগ্রামিংয়ের উপর বেশ কিছু সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারেন। বর্তমানে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রোগ্রামিং এবং ফাইন্যান্সের উপর যেসব সার্টিফিকেশন কোর্সের গুরুত্ব অনেক বেশি, সেগুলো হচ্ছে,

১. ম্যানেজমেন্ট এন্ড কন্ট্রোল অফ ফাইন্যান্স

২. সার্টিফাইড ট্রাস্ট এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানার

৩. সার্টিফাইড রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার

৪. সার্টিফাইড ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানার

৫. সার্টিফাইড কর্পোরেট ট্রাস্ট স্পেশালিস্ট

৬. চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট

৭. চার্টার্ড অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট অ্যানালিস্ট

৮. ব্যাসিক কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কোর্স ফর ব্যাংকিং সেক্টর

৯. সার্টিফাইড ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স ফর ব্যাংকারস

Featured Image: kitabsawti.teamtailor.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *