ভ্রমণকে সহজ আর সুলভ করতে প্রয়োজনীয় ৮ টি টিপস

brightside.me

দু’চোখ ভরে সৌন্দর্য দেখতেই ভ্রমণকারীরা বেরিয়ে পড়েন পৃথিবীর পথে। নিজের মতো নিয়ম করে অনেকেই পথ পাড়ি দেন। ভুল করতে করতে হয়তো শিখে যান আবার অনেকেই নতুন পরিস্থিতিতে গিয়ে জন্ম দেন অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কিংবা প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হন। ভ্রমণে গিয়ে কী করতে হবে তা না জানলে আপনার পকেট যে কাটা পড়ছে তা অনেকটাই নিশ্চিত। তাই জেনে নিন ভ্রমণে কী করবেন আর কী থেকে দূরে থাকবেন।

১. ভ্রমণ শুরু করুন রাতে

রাতটা যেহেতু ঘুমিয়েই কেটে যায়, তাহলে ভ্রমণের রাস্তাটা পাড়ি দিন রাতেই। দিনের আলো না হয় গন্তব্য ঘুরে দেখার জন্যে বাঁচিয়ে রাখলেন। রাতের ট্রেন কিংবা বাসে পাড়ি দেওয়ার ফলে একদিকে যেমন এক রাতের হোটেল খরচ কমে আসবে তেমনি আপনিও একটু বেশী সময় পাবেন আপনার প্রত্যাশিত জায়গাটি ঘুরে দেখার।

ভ্রমণের রাস্তাটা পাড়ি দিন রাতেই; ছবিসূত্রঃ brightside.me

২. ‘৬ ব্লক’ দূরে

পৃথিবীর যে প্রান্তেই যত সুন্দর স্থানেই যান না কেন, ক্ষুধা আপনার পিছু ছাড়ছে না। আর ক্ষুধা নিবারণের জন্যে পযর্টক গন্তব্যগুলোকে কেন্দ্র করে খাবারের দোকান গড়ে উঠে। যার বেশীরভাগই বহনযোগ্য ধরণের ফাস্ট ফুড। আর সেই দোকানগুলোতে যে খাবারের দাম চড়া থাকে তা বলাই বাহুল্য। তাই অভিজ্ঞ পর্যটকদের মধ্যে খাবার কেনার ব্যাপারে সাধারণ একটি নিয়ম চালু আছে, সেটি হলো ‘6-block rule‘। আপনার গন্তব্য থেকে ম্যাপ ধরে পার্শ্ববর্তী লোকালয়ের দিকে হাঁটা শুরু করুন। আনুমানিক ৬ ব্লক দূরে পৌঁছে যান।

ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো চেখে  নিন; ছবিসূত্রঃ brightside.me

নতুন জায়গাটাও একটু ঘুরে দেখার সুযোগ হলো, পাশাপাশি ঐ এলাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো চেখে দেখার সুযোগ হয়তো পেয়ে যেতে পারেন ভাগ্য ভালো হলে। ফাস্টফুড তো চাইলে অফিসে যাবার পথেও কিনে খেতে পারেন। তবে আপনার হাতে ম্যাপ না থাকলে আর আশেপাশে লোকালয় না থাকলে কিংবা দলছুট হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

৩. শেয়ার করুন রাইড, ব্যবহার করুন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট

যে দেশ কিংবা এলাকায় যাচ্ছেন সে এলাকার পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সময়সূচীর একটি কপি রাখুন সাথে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কিংবা গণ পরিবহন অন্য যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে সহজলভ্য আর নিরাপদ হয়। পাবলিক ট্রান্সপোর্টের পরেই পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় আছে রাইড শেয়ারিং পদ্ধতি। এতে একদিকে যেমন খরচ কমে আসে ঠিক অন্যদিকে গণ পরিবহনের ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত পৌঁছে যাওয়া যায় গন্তব্যে।

 

ব্যবহার করুন রাইড শেয়ারিং; ছবিসূত্রঃ askmen.com

৪. অগ্রীম বুকিংয়ের সুবিধা অসুবিধা

আপনার ভ্রমণ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে যদি গন্তব্যে পৌঁছার আগেই আপনি হোটেল বুক করেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে হয়তো গুণতে হতে পারে বেশি টাকা। কিন্তু আপনি যদি পৌঁছে বুকিং দেন তাহলে হয়তো ডিসকাউন্টও পেতে পারেন। আবার এক্ষেত্রে হোটেল না পাবার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই আপনার ভ্রমণের দুরত্ব, অবস্থানকাল, গন্তব্য থেকে হোটেলের দুরত্ব বুঝে সিদ্ধান্ত নিন আগে বুকিং দিবেন নাকি স্পটে পৌঁছে বুকিংয়ের কাজ সারবেন।

হোটেল বুক দিন দেখেশুনে; ছবিসূত্রঃ brightside.me

৫. সাথে কি নগদ টাকা রাখবেন?

ঘুরতে গেলে সাথে নগদ টাকার পরিমাণ কম রাখাই নিরাপদ। গন্তব্যের আশেপাশে এটিএম বুথের একটি ম্যাপ সাথে রাখুন। তবে নিশ্চিত না হয়ে সন্দেহজনক এটিএম বুথ ব্যবহার না করাই উত্তম। আর যদি লোকালয় থেকে দূরে কোথাও যান যেমন- পাহাড়ের কোলে, সাগর কিংবা নদীর পাড়ে তবে এই ফর্মুলা খাটছে না। সাথে রাখতে হবে নগদ অর্থ। তবে বেশিরভাগ হোটেলেই এখন ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে জেনে নিন আপনার হোটেলে মানি এক্সচেঞ্জ কিংবা এটিএম বুথের মতো সেবা আছে কিনা।

নগদ টাকা না রাখাই ভালো; ছবিসূত্রঃ brightside.me

৬. ছিনতাই কিংবা পকেটমার থেকে থাকুন নিরাপদে দুরত্বে

বিদেশ বিভূঁইয়ে ছিনতাই কিংবা পকেটমারের সম্মুখীন হওয়ার চেয়ে দুর্ভাগ্যের বোধহয় আর কিছু নেই। তাই ছিনতাই এড়াতে রাস্তায় কিংবা সন্দেহজনক এলাকায় আপনার মূল্যবান সামগ্রী ব্যাগ থেকে বের না করাই উত্তম। দলছুট হয়ে এদিক সেদিক ঘোরাঘুরিতেও ছিনতাইকারীদের কবলে পড়তে পারেন।

সতর্ক থাকুন ছিনতাইকারী কিংবা পকেটমার থেকে; ছবিসূত্রঃ brightside.me

আর পকেটমারের হাত থেকে বাঁচতে এড়িয়ে চলুন অনাকাঙ্ক্ষিত ভীড়। পর্যটন এলাকা এবং আশেপাশে এলাকাগুলো থেকে চুরি আপনার হাতব্যাগ মোবাইল চুরি যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী। তাই মূল্যবান জিনিসগুলো নিরাপদে রাখুন। হাতব্যাগে কিংবা মানিব্যাগে সব মূল্যবান জিনিস একসাথে না রেখে ভাগ ভাগ করে রাখুন। এতে যদি আপনার একটি ব্যাগ কোনোক্রমে হারিয়ে যায় আশা করতে পারেন খুব বেশী কিছু হারাচ্ছে না। নিকটস্থ পুলিশের নাম্বার আর হেল্প লাইনের নাম্বার সাথে রাখুন। হোটেলের চাবি, ক্রেডিট কার্ড কিংবা মানিব্যাগ চুরি হলে দ্রুত পুলিশ কিংবা প্রশাসনকে জানান।

৭. তুলনা করুন, যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন

বিমানে সিট বেল্ট বাঁধার সাথে সাথেই আপনার সামনে হয়তো কিছু ম্যাগাজিন কিংবা বুকলেট চলে আসবে। সাথে সাথে কিছু ট্যুর প্ল্যান, গাইডের নাম্বারও পেয়ে যাবেন। কিন্তু এগুলো পেয়ে মোটেও মনে করবেন না আপনার কাজ শেষ। বরং আপনার যাচাই বাছাই করার কাজ আরো বেড়ে গেলো। পরযটকদের লক্ষ্য করে ছাপানো এইসব ম্যাগাজিন আর বুকলেট সাধারণত একধরনের বিজ্ঞাপন

তুলনা না করে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো; ছবিসূত্রঃ brightside.me

কম খরচে আপনার ভ্রমণ সারতে চাইলে একটু কষ্ট করে নিজের থেকেই বেছে নিতে হবে সস্তা প্যাকেজ আর দক্ষ গাইডকে। তবে এই কঠিন কাজ একটু সহজ করে দিয়েছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেটে খুব সহজেই তুলনা করা যায় বিভিন্ন প্যাকেজের সুবিধা অসুবিধা, করা যায় দরদাম।

৮. সাবধানতার খাতিরে লুকিয়ে রাখুন কিছু টাকা

অপরিচিত জায়গায় ভ্রমণে কত রকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সবরকম ঝক্কি ঝামেলা উতরে যেতে পারেন যদি আপনার কাছে বাড়ি ফিরবার কিংবা নিরাপদ গন্তব্যে ফিরে আসার মতো কিছু টাকা অবশিষ্ট থাকে।

লুকিয়ে রাখুন কিছু টাকা; ছবিসূত্রঃ brightside.me

তাই সাবধানতার খাতিরে জামায় লুকানো পকেটের পাশাপাশি জুতায় নিচে লুকিয়ে রাখতে পারেন কিছু টাকা কিংবা হাস্যকর শোনালেও সাবানে গর্ত করেও কিছু টাকা রেখে দিতে পারেন। কিংবা নিজেই উদ্ভাবন করে ফেলুন টাকাপয়সাকে সুরক্ষিত রাখার অভিনব কিছু পন্থা।

ফিচার ইমেজঃ brightside.me

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *